তেহরান, ৮ মার্চ:এবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে বড়সড় সাফল্যের দাবি করল আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেনে, বি-১ এবং বি-২ বোমারু বিমানের হামলায় ইরানের একটি সাবমেরিন-সহ মোট ১৭টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হয়েছে। ক্রমাগতঃ আক্রমণে ইরানের নৌসেনা কার্যতঃ ধ্বংসের মুখে। তার দাবী এই মুহূর্তে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কোনও যুদ্ধজাহাজ সচল নেই। যদিও তেহারান এই মার্কিন দাবি এখনও স্বীকার করে নি।
এর আগে আজ ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, গোটা বিশ্বের নজর যে হরমুজ প্রণালীর দিকে রয়েছে তা সম্পূর্ণ ভাবে তাদের নৌ বাহিনীর দখলে আছে। আর এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে কোনো দেশের জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তা ধ্বংস করা হবে। অর্থাৎ, জলপথে বিশ্বের সবথেকে বেশি তেল আমদানি রফতানির পথ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ইরান ও ওমানের মাঝে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশই পরিবহন করা হয়।
এই দখলের পর প্রণালীর আশপাশ দিয়ে আটকে রয়েছে বিভিন্ন দেশের শতাধিক জাহাজ। ফলে চিন্তার ভাঁজ গোটা বিশ্বের কপালে। কারণ এই প্রণালী স্তব্ধ হয়ে গেলে টান পড়বে গোটা বিশ্বের তেল ভাণ্ডারে। ইতিমধ্যেই বিশ্ব বাজারে বাড়তে শুরু করেছে অশোধিত তেলের দাম। শনিবার আমেরিকা-ইজরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড এই প্রণালী দখলের চেষ্টা শুরু করে। অবশেষে প্রণালী দখলের কথা ঘোষণা করে তারা গোটা বিশ্বের তেল ভান্ডারে বড় আঘাত হানল বলেই মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। এর ফলে বড়সড় আঘাত আসবে অর্থনীতিতে।
এই ঘোষণার পরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, হরমুজে আটকে পরা জাহাজগুলিকে পাহারা দিয়ে প্রণালীর বাইরে নিয়ে আসতে।


