সন্ধান২৪.কম : জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সময় জনৈক নূর হোসেন ইতিহাস বিকৃত করার অভিযোগ তুললে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন। ঘটনাটি এখন বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ঘোরাঘুরি করছে।

৭ আগস্ট সন্ধায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে বাংলাদেশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবসের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন করে । অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সময় জনৈক নূর হোসেন এতে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন।

জনৈক নূর হোসেনের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একপর্যায়ে তার সঙ্গে উপস্থিত কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিএনপির কর্মীরা নূর হোসেনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ঘটনাটি নিয়ে অনুষ্ঠানে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্রের বিষয়বস্তু নিয়ে এমন বিরোধ তৈরি হওয়ায় উপস্থিত অনেকের মধ্যেই আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে প্রামাণ্যচিত্রের কোন অংশকে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে এবং আয়োজকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউইয়র্কের একজন জুলাই যোদ্ধা বলেন,নিউইয়র্কের কনস্যুলেট অফিস জেনে-শুনে-বুঝে ইতিহাসকে বিকৃত করে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করেছে,যাতে বিএনপি সরকারের ‘গুডবুকে’ এই কনসাল জেনারেলের নাম লেখা থাকে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আর একজনের মতে,বিএনপি সরকার ও নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিতর্কিত করার জন্য সুকৌশলে এবং পরিকল্পিতভাবে এই অপকর্মটি করা হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ককের জুলাইযোদ্ধা রওশন হক ফেসবুকে দাবী করেন নূর হোসেন জুলাই যোদ্ধা। তিনি মন্তব্য করেন,‘ওয়াহিদুজ্জামান এপোলো ভাইর তত্ত্বাবধানে এই ভুলে ভরা ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়েছে। আমরা এর তিব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ তিনি মন্তব্য করেন, ”– এ কথা বললে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে হবে কেন ? কি আশ্চর্য! ”
আবু নাসের চৌধুরী ফেসবুকে বলেন, “যাকে তোরা বের করে দিলি সে হলো জুলাই যোদ্ধা। আমরা তাকে ছিনি। আমাদের সহযোদ্ধা।”
এদিকে ফেসবুকে গিয়াস আহমেদ মন্তব্য করেন,“আমরা ৪০ বছর একটানা বাংলাদেশের গনতন্ত্রের পক্ষে আমেরিকার রাজপথে , জাতিসংঘে , হোয়াইট হাউসে, কেপিটাল হিলে, ষ্টেট ডিপার্টমেন্টে , জ্যাকসন হাইষট সহ বিভিন্ন স্হানে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছি। কিন্তু কথিত লোকটাকে আমরা আন্দোলন সংগ্রামে কখনোই দেখিনি। সে কি আওয়ামী এজেন্ট বা অন্যকোন দুষ্কৃতীকারী তা আমরা জানি না। জুলাই আন্দোলন এবং সফলতার সম্পর্কে তার কোন ধারণা নেই বলেই মনে হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের গুপ্ত আগন্তুক এই ধরনের কোন অনুষ্ঠানে যেন প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করা উচিত।”
.ঘটনার সময় ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ এটর্ণী মইন চৌধুরী মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে উত্তেজিত বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে শান্ত হবার জন্য বার বার আহ্বান জানাতে থাকেন।এ সময় বিএনপির সিনিয়র নেতা গিয়াস আহমেদকেও মাইকে কিছু বলতে শোনা যায়।


