সন্ধান২৪.কম :”‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে সরকারী পৃষ্ঠপোষকাতায় অনেক কিছু হচেছ, কিন্ত তার বিরুদ্ধে কোন সংখ্যালঘু যদি আইসিটি এ্যাক্টে মামলা করে, তবে তাকে যে গুম করা হবে না,তার নিশ্চয়তা কে দিবে ? যার জন্য সংখ্যালঘুদের উপর শত অত্যাচার-নির্যাতন হলেও সংখ্যালুঘুরা মামলা করছে না।” সন্ধান২৪.কম থেকে প্রাশ্ন করা হলে সংবাদ সম্মেলনে এমনই উত্তর দেন যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ।

২৩ আগষ্ট রবিবার, নিউ ইয়র্ক-এ দুপুর ১২টায় যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কালে সংখ্যালঘু নির্যাতন বৃদ্ধি, এর মূল কারনসমূহ, সেটা বন্ধ করতে সরকারের অনীহা, আর তা’ বন্ধ না করলে সংগঠনের ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রাম সম্পর্কে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ।
সংগঠনের অন্যতম সভাপতি নবেন্দু দত্ত সূচনা বক্তব্য করেন । লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দ্বিজেন ভট্টাচার্য । দুই ঘন্টা ব্যাপী অনুষ্ঠিত এই জুম ভিডিও কনফারেন্সে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংগঠনের পরিচালক- লেখক শিতাংশু গুহ,নবেন্দু দত্ত ও দ্বিজেন ভট্টাচার্য। সংগঠনের পক্ষে আরও যারা উপস্থিত ছিলেন অন্যতম সভাপতি রণবীর বড়ুয়া, যুগ্ম সম্পাদক বিষ্ণু গোপ, ডক্টর জিতেন রায়, প্রদীপ মালাকার, রিণা সাহা, সুশীল সিনহা, সুশিল সাহা, মতিলাল দেব রায়, প্রকাশ গুপ্ত, প্রমুখ ।

সন্ধানের প্রতিনিধির এক প্রশ্নের উত্তরে সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয়, সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন বিষয়বস্তু সংবলিত বই সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশ করা হচ্ছে। অথচ তা দেখার মত কেউ নেই। ফলে দেশে সংখ্যালঘু বিদ্বেষ দিন দিন বাড়ছে। এর বিরুদ্ধে ধর্ম সংখ্যালঘুরা জেল-জুলুম বা গুমের ভয়ে প্রতিবাদ বা মানহানির মামলাও করতে সাহস পাচ্ছে না ।
যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের লিখিত বক্তব্যে বলা হয় , “একটি দেশের সরকার যখন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, কিংবা প্রশাসন যখন এ’ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে, অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্যাতকদের সহায়ক শক্তির ভূমিকা গ্রহন করে, তখন নির্যাতিতরা এর প্রতিকারের জন্য মিডিয়া ও প্রগতিশীল শক্তির শরণাপন্ন হয়।” বক্তব্যে দাবি করা হয় যে, “দেশে যে সামপ্রদায়িক সন্ত্রস চলছে তাতে ” চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি আওয়ামি লীগ ও বি. এন. পি’র নেতাদের সম্পৃক্ত থাকার প্রমান আছে।” ”মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিলো সাড়ে ৭ কোটি, তন্মধ্যে সংখ্যালঘু দেড় কোটি। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরের মাথায় দেশে এখন ১৬ কোটি মানুষ, সংখ্যালঘুর সংখ্যা এখনও দেড় কোটি” বলে উল্লেখ করে বলা হয়, “পঞ্চাশ বছরে হিন্দু জনসংখ্যা কেন বাড়লো না, বা এত সংখ্যালঘু কোথায় গেলো এর জবাব তো কাউকে না কাউকে দিতে হবে। এত রক্ত ও এত মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ইসলামী রাষ্ট্র পাকিস্তান ভেঙ্গে একটি ধর্ম -নিরপেক্ষ গনতান্ত্রিক দেশ গড়া হল, যাতে সকল ধর্মের মানুষ সখনে সমান অধিকার ভোগ করে নিরাপদে বসবাস করতে পারে। অথচ, এই দেশটিকে কার্যত: আরেকটি ইসলামী ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। এই যদি হবে তবে একাত্তরের দরকার ছিল কি?”
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয় , “সামাজিক ও রাজনৈতিক অন্দোলনের মাধ্যমে সংখ্যালঘু নির্যাতনের এই জঘন্য প্রক্রিয়াটি বন্ধ করা না হলে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ অচিরেই পাকিস্তানের মত একটি জঙ্গীরাষ্ট্রে পরিণত হবে, আর বাংলাদেশ দ্বিতীয় তালেবানী আফগানিস্তান বা জঙ্গী পাকিস্তানে পরিণত হলে সেখানে প্রগতিশীল মুসলমানদের অস্তিত্বও বিপন্ন হবে। তাই দেশের প্রগতিশীল মানুষের উচিৎ এখনই ওই হিংস্র দানবীয় শক্তিকে রুখে দাঁড়ানো।”


