সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : কৃষকরা এখনো দিল্লি ঘিরে বসে আছেন। দিল্লিতে ঢোকার আরো একটি রাস্তা বুধবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কৃষকদের কাছে কমিটি গঠন করে কৃষি আইন নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু কৃষক সংগঠনগুলো সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে। কারণ, তাদের মতে, এটা সময় নষ্ট করার একটা প্রয়াস ছাড়া আর কিছু নয়।
এদিকে এই প্রতিবাদীদের দল আরো শক্তিশালী ও জোরালো করতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ থেকে আরো কৃষক এসে পৌঁছেছেন, অনেকে পথে আছেন। দিল্লির সীমানায় ট্রাক, ট্র্যাক্টর, অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে কৃষকরা বিক্ষোভ-অবস্থান করছেন। তাদের সঙ্গে দুই মাসের খাবার রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে নিজেদের খেতের খড়। রাতে ট্র্যাক্টরের উপর খড় বিছিয়ে তারা শুয়ে পড়ছেন। কেউ শুচ্ছেন রাস্তাতেই। দিল্লির এই প্রচণ্ড ঠান্ডাতেও।

কৃষকদের দাবি, সরকারকে নতুন কৃষি আইন আগে বাতিল করতে হবে। আর ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্য নিয়ে আইন করতে হবে, যাতে বেসরকারিভাবে যারা কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কেনেন, তারা এই আইন মানতে বাধ্য থাকেন। সরকার অবশ্য কোনো দাবি মানার ইঙ্গিত দেয়নি। বৃহস্পতিবার আবার বৈঠক হবে।
কৃষকরা শুধু যে দিল্লির দোরগোড়ায় এসে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন এবং তাতে সারা দেশে কৃষকদের কাছে একটা সরকার-বিরোধী বার্তা পৌঁছচ্ছে তাই নয়, হরিয়ানা ও রাজস্থানে এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। মোদি সরকার যদি কৃষকদের দাবি না মানে এবং তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে তা হলে হরিয়ানায় রাজ্য সরকার পড়ে যেতে পারে।

উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, কেরালা ও রাজস্থান থেকে আসা কৃষকরা এভাবেই প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃষকদের এই প্রতিবাদের মুখে পড়ে সরকার আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু তারা এখন কোনোভাবে কৃষকদের আন্দোলন বন্ধ করার ও সময় নষ্টের মনোভাব নিয়েছে বলে কৃষকদের অভিযোগ। তাই তারা সরকারের উপর চাপ বিন্দুমাত্র কম করতে রাজি নন।
এ দিন পশ্চিম উত্তর প্রদেশ থেকে কৃষকদের একটা বড় দল এসে দিল্লি ও নয়ডার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। নয়ডা পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি, বাইক, স্কুটার নিয়ে যারা যাতায়াত করেন, তারা যেন ডিএনডি ফ্লাইওভার ও কালিন্দী কুঞ্জের রাস্তায় না আসেন। কারণ, সেটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হরিয়ানা থেকে দিল্লিতে ঢোকার দুইটি রাস্তা আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে দিল্লি ঢোকার অন্যতম প্রধান রাস্তাও আংশিক বন্ধ। ফলে দিল্লিতে ঢোকার তিনটি রাস্তা পুরো ও একটি আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে। আর গোটা দুয়েক রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে দিল্লিতে ঢোকার অধিকাংশ প্রধান রাস্তাই বন্ধ হয়ে যাবে। দিল্লি অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে।


