সন্ধা২৪.কম: নেগেটিভ রিপোর্ট আসলেই যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা সুস্থ হয়ে গেছেন, এটা ঠিক নয় । করোনামুক্ত হওয়ার পর দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, নেগেটিভ রিপোর্ট আসার পরও হার্ট, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ব্রেনসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।
করোনায় আক্রান্ত রোগীরা দেরীতে ডাক্তারের কাছে যান। উপসর্গ থাকলেও দেরি করে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা করে পজিটিভ রিপোর্ট আসার পর দেখা যায়, তার আগেই এই ভাইরাস নীরবে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ৫০ থেকে ৮০ ভাগ ক্ষতি করে ফেলেছে। এক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।
চিকিৎসক গবেষকেরা জানান, কোভিড-১৯ মানবদেহের এমন কোনও অঙ্গ নেই যার ক্ষতি না করছে। ফুসফুস তো বটেই, এমনকি লিভার, হৃদপিণ্ড, কিডনি, মস্তিষ্ককেও ছাড়ছে না করোনা ভাইরাসের এবারের প্রজাতি। সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে—অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীরের এই ক্ষতিটা বোঝা যাচ্ছে করোনা নেগেটিভ হওয়ার সপ্তাহখানেক পর থেকে। এই সমস্যা কারো কারো আরও পরে হয়। অতি সন্তর্পণে কোষের মধ্যে ঢুকে তা আত্মগোপন করে থাকে। ধীরে ধীরে কোষগুলোর ক্ষতি করতে থাকে। নীরবে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ৫০ থেকে ৮০ ভাগ ক্ষতি করে থাকে। রক্ত জমে চাকা চাকা হয়ে যায়। হার্ট ও ব্রেন স্ট্রোক হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিত্সক অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, করোনায় আক্রান্ত রোগীর নেগেটিভ রিপোর্ট আসা মানেই তাকে সুস্থ ভাবা ঠিক না। অনেকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আগে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন না। কিন্তু করোনা নেগেটিভ আসার পর তার ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে। আবার কারোর উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে। নেগেটিভ রিপোর্ট আসার পরও অনেকের মাংসপেশি ব্যথা করে। ফুসফুস, হার্ট, কিডনি, লিভারসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। তাই করোনা আক্রান্ত রোগীদের নেগেটিভ রিপোর্ট আসার পরও দুই থেকে তিন মাস চিকিত্সকদের পরামর্শে থাকতে হবে। নেগেটিভ রিপোর্টের পরও যে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে, এই বিষয়টি এক শ্রেণির ডাক্তার ও রোগীরা অবহেলা করে। যার মাশুল দিতে হয় জীবন দিয়ে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, রোগীর নেগেটিভ রিপোর্ট আসলেও দুই থেকে তিন মাস ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। নিজের ইচ্ছামতো চলাচল করা যাবে না।
মুগদা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, করোনা রোগীদের ফুসফুসের বেশি ক্ষতি হয়। এক শ্রেণির ডাক্তারও এ বিষয়ে পরামর্শ দেন না রোগীদের। ফলে নেগেটিভ রিপোর্ট পেয়ে রোগী নিশ্চিন্তে পরিশ্রম করে। শরীরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে অক্সিজেন কমে যায় এবং হার্টবিট বেড়ে গিয়ে অনেক সময় রোগীর মৃত্যু হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, যাদের লিভারে সমস্যা নেই, তারা করোনায় আক্রান্ত হলেও তেমন সমস্যা হয় না। তবে লিভার সিরোসিসসহ লিভারের বিভিন্ন সমস্যায় যারা আক্রান্ত তাদের করোনা হলে ঝুঁকি বেশি। লিভার সিরোসিসে আক্রান্তরা করোনা সংক্রমিত হলে রোগীদের ৪০ শতাংশই মারা যায়।
এ এম জেড হাসপাতালের মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ সায়েম বলেন, নেগেটিভ রিপোর্ট আসলেও অনেক রোগী পরবর্তীতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকেন। কারণ এই সময়ে রক্ত ঘন হয়ে যায়। ফুসফুসে চাপ বাড়ে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। ব্রেন ও হার্ট স্ট্রোক হতে পারে। ‘


