সন্ধান২৪.কম : আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের অফিস স্থানান্তর করা হবে। কনস্যুলেট অফিসে যারা সেবা নিতে আসেন তাদের সুবিধার জন্যই অফিস অন্য জায়গায নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, নিউয়র্কের বিরাজমান পরিস্থিতি এবং কনস্যুলেট জেনারেলের সেবাসহ প্রাসংগিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা এই ঘোষনা দেন। এছাড়া আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি কার্ড) প্রদান করা হবে তিনি জানান।
গত ১৪ মে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে চারটায় লং আইল্যান্ড সিটির নিজস্ব কার্যালয়ে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের সাথে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে নাজমুল হুদা বলেন,বর্তমান অফিসের একেবারে কাছাকাছি স্থানে অফিস নিয়ে যাওয়া হবে। সেবা গ্রহীতাদের সেবা নিতে যাতে কোন প্রকার অসুবিধা না হয়,তার জন্য অনেক বড় পরিসরে অফিস স্থানান্তর করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই অফিস থেকে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি কার্ড) প্রদান করা হবে। তখন দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। যার জন্য আমরা বড় জায়গা জুড়ে অফিস নিচ্ছি।
এনআইডি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নিউইয়র্কে এনআইডি প্রদান করা হবে। ইতিমধ্যে প্রথম ধাপের বেশ কিছু দেশে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমার আছি দ্বিতীয় ধাপে। এনআইডি প্রদান করার জন্য আমরা প্রস্তুত,সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রেখেছি। শুধুমাত্র অপেক্ষা করে আছি অনুমতীর জন্য। তিনি জানান, বাংলাদেশের জন্ম ও নাগরিক নিবন্ধন থাকলে যে কেউ বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় পরিচয়পত্রের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এনআইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সভার শুরুতে কনসাল জেনারেল মো: নাজমুল হুদা সবাইকে স্বাগত জানিয়ে কনস্যুলেট অফিসের বিভিন্ন সেবা, সীমাবদ্ধতা নিয়ে তিনি খোলামেলা কথা বলেন। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে তার অফিস থেকে কনস্যুলার সেবা দেয়া হয়ে থাকে।
কনস্যুলেট সেবা সম্পর্কে কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রবাসীরা অপ্রস্তুত হয়ে সেবা গ্রহণের জন্য আসেন। এর ফলে জটিলতা দেখা দেয়। তিনি সবাইকে সেবা গ্রহণের জন্য আসার আগে একবার ওয়েবসাইট দেখে আসার জন্য অনুরোধ করেন। একমাত্র পাসপোর্ট ছাড়া অন্যসব কনস্যুলেট সেবা একদিনেই সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। কনসাল জেনারেল জানান, বর্তমান অফিসে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে স্থান সংকুলান ও গাড়ি পার্কিং। গাড়ির পার্কিং খুঁজতে খুঁজতে অনেকেই তাদের সিরিয়ালের নির্দিষ্ট সময় হারিয়ে ফেলেন। ভেতরে বসার জায়গা না পেয়ে অনেকেই দাঁড়িয়ে থাকেন। তাই খুব শিগগির আমরা বর্তমান অফিসের অদূরে নতুন ভবনে কনস্যুলেট অফিস স্থানান্তরিত করব। আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নতুন অফিসে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ভবনের লিজ গ্রহণ এখনো প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি জানান। কনসাল জেনারেল এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিষয়গুলো জনগণের সামনে, বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি কনসাল জেনারেল এস এম নাজমুল হাসান, ফার্স্ট সেক্রেটারি (পাসপোর্ট) প্রসূন কুমার চক্রবর্তী, কাউন্সিলর অ্যান্ড হেড অব চ্যান্সেরি ইশরাত জাহান ও থার্ড সেক্রেটারি আসিব আহমেদ।


