জিম্বাবুয়ে সফরের জন্য টি ২০ দলের অধিনায়কত্ব পেয়ে গর্বিত নুরুল হাসান সোহান। তবে অতি উত্তেজিত হচ্ছেন না।
তিন ম্যাচের টি ২০ সিরিজ উন্নতির লক্ষ্য নিয়ে শুরু করবেন। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলায় বিশ্বাসী নুরুল হাসান। রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অধিনায়ক হিসাবে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানালেন, দল হিসাবে ভালো খেলাই তার চাওয়া থাকবে-
প্রশ্ন : অধিনায়কত্ব পেয়ে কেমন লাগছে?
নুরুল হাসান : অধিনায়ক হওয়া তো অবশ্যই গর্বের ব্যাপার। সামনের চ্যালেঞ্চ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি। খুব বেশি উত্তেজনা দেখানোর সুযোগ নেই। দল হিসাবে খেলা এবং নিজেদের সেরাটা দেওয়াই মূল লক্ষ্য।
প্রশ্ন : টি ২০ ক্রিকেটে ভালো করতে হলে কোথায় উন্নতি করতে হবে?
নুরুল হাসান : ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব করার সময়ও চাওয়া থাকে যেন দল হিসাবে খেলতে পারি। জিম্বাবুয়েতেও লক্ষ্য থাকবে যেন দল হিসাবে খেলতে পারি। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলের পরিবেশ। সবাই তো প্রতিদিন পারফর্ম করবে না। আমরা যারা টিম মেম্বার থাকব ১৪-১৫ জন তারা যেন একজনের সাফল্য আরেকজন উপভোগ করি। এই সংস্কৃতি এবং দল হিসাবে খেলাটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন : টি ২০তে আসলে কোন জায়গায় উন্নতি দরকার?
নুরুল হাসান : টেস্ট ও টি ২০তে আমরা পিছিয়ে আছি। এখানেই উন্নতির চেষ্টা করব। এজন্য প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। ফল থেকে সেটাই চেষ্টা করব। এই সিরিজে দলগতভাবে খেলা আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন : তিন ম্যাচের জন্য অধিনায়ক হয়েছেন। এরপর যদি এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপে অধিনায়ক থাকেন তাহলে কীভাবে এগোনোর পরিকল্পনা?
নুরুল হাসান : আমার ব্যক্তিগত জীবনে ক্রিকেট কিংবা অন্য কিছুর বিষয়েও যদি বলি তাহলে প্রত্যাশা অনেক কম থাকে। নিজে কঠোর পরিশ্রম করব, প্রক্রিয়া অনুসরণ করব, নিজে সৎ থাকব। ফল, ভবিষ্যৎ, অতীত এগুলো নিয়ে আমি খুব একটা ভাবি না। চাপ থেকে অনেক দিন ধরেই দূরে থাকি।
প্রশ্ন : সিনিয়রদের সঙ্গে কথা হয়েছে কি না? চ্যালেঞ্চ নিতে কতটুকু প্রস্তুত?
নুরুল হাসান : সবার সঙ্গে কথা হয়েছে। মাহমুদউল্লাহ ভাই, সাকিব ভাই সবার সঙ্গেই। অবশ্যই আমি প্রস্তুত। দল নিয়ে আলাদাভাবে ভাবতেই হবে। টি ২০তে ‘পাওয়ার প্লে’ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ওই জায়গায় উন্নতি করার চেষ্টা করছি। আশা করছি আমরা ভালো করতে পারব।
প্রশ্ন : সিনিয়ররা নেই এই সিরিজে, টিম কালচার…
নুরুল হাসান : বাংলাদেশ ক্রিকেটে আমাদের সিনিয়র যারা আছেন তাদের যে অবদান সেগুলো এককথায় শেষ হবে না। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটা আমাদের জন্য একটা সুযোগ। আমরা যারা জুনিয়র আছি বা খেলছি তাদের দায়িত্ব দলকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়া।
শেষ কয়েক বছরে বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশে অনেক উন্নতি হয়েছে। এই জিনিসটা আমরা যেন আরও ভালোভাবে করতে পারি। যে জায়গাগুলোতে সমস্যা আছে সেগুলোতে উন্নতি করাই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন : অনেক কিছু করার পরও টি ২০তে ফল আসছে না। আপনি কোন জিনিসটা যোগ করতে চাইবেন আপনার নেতৃত্বে?
নুরুল হাসান : ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলাটাই গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই এটা করার চেষ্টা করব। আগে থেকে ফল নিয়ে চিন্তা করলে প্রক্রিয়া ঠিক থাকে না। এজন্য প্রক্রিয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। ফল নিয়ে চিন্তা করছি না। নির্ভীক থাকলে ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। অন্য কিছু চিন্তা না করে যেন খেলা নিয়ে থাকতে পারে তারা। মনের মধ্যে ভয় থাকলেই নেতিবাচক বিষয়গুলো ভর করবে।
প্রশ্ন : জিম্বাবুয়ে সফরের দল নিয়ে আপনার সঙ্গে নির্বাচকদের কথা হয়েছিল কি না?
নুরুল হাসান : ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে আসার পর নির্বাচকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমাকে যখন জানানো হলো তখনো কথা হয়েছে। এখানে অপশন খুব বেশি ছিল না। যারা খেলছে শেষ কয়েক বছর ধরে তারাই আছে। আবার আলোচনারও বেশি সময় ছিল না। যে দলটা পেয়েছি তাতে আমি খুশি।


