সন্ধান২৪.কমঃ আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর আঁতশবাজীর মধ্যদিয়ে গতকাল চাঁদ রাতে হাতে মেহদি পরার উৎসবে মেতে উঠেছিল নিউইয়র্ক শহর।
দীর্র্ঘ এক বছর প্রতিক্ষার পর গত কাল চাঁন রাতকে ঘিরে,নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস,জ্যামাইকা,ব্রঙ্কস,চার্চ ম্যাগডোনাল্ট ও ওজোনপার্ক এলাকায় মানুষের ঢল নেমেছিল। এ রাতে মেহেদীর রঙে হাত রাঙান শত শত শিশু-কিশোরী ও নারীরা।


গত কাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজা,৭৩ ও ৭৪ ষ্ট্রিট চাঁদরাতে যত মানুষের ঢল নেমেছিল তার অর্ধেকই ছিলেন নারী ও শিশু। এই এলাকার ফুটপাতে চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে হাতে মেহেদী রঙে রাঙিয়ে তোলে অসংখ্য নারী ও শিশু কন্যারা। আর তাদের সবাই ব্যস্ত ছিলেন হাতে মেহেদী লাগাতে। সন্ধ্যা নামার আগে মেহেদীর সঙ্গে যোগ হয়েছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আঁতসবাজীর উৎসব। এ আনন্দ উৎসব গভীর রাতকে ছুঁয়ে যায়।
ব্রুকলিন থেকে জ্যাকসন হাইটসে চাঁদরাত দেখতে এসেছিলেন শাহরীন আকতার। তিনি বলেন, চাঁদরাতে জ্যাকসন হাইটসে না এলে ঈদের আনন্দ অপূর্ণ থেকে যায়। তবে মানুষের ভীড় এতই বাড়ছে যে আগামীতে আর এ এলাকায় আসা দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে। তিনি বলেন,নিউইয়র্কে বাঙালি কমিউনিটিতে দিন দিন চাঁদরাতের কদর বাড়ছে।
শাহরীন আকতারের মত হাজারো নারী-পুরুষের আগমন ঘটেছিল জ্যাকসন হাইটসে। চাঁদরাত উৎসবে মেতে উঠেছিলেন নারী ও শিশুকন্যারা। আর তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন পরিবারের অন্য পুরুষ সদস্যরা। ফলে গভীর রাত পর্যন্ত জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ ও ৭৪ স্ট্রিট ছিল লোকে লোকারণ্য। বিশেষ করে ডাইভারসিটি প্লাজায় বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চাঁদ রাতকে উপভোগ করতে শত শত মানুষের ঢল নামে। রেষ্টুরেন্টগুলোতেও সব সময় ভীড় লেগে ছিল।
এছাড়াও নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যামাইকা,ওজন পার্ক, ব্রুকলিন,এষ্টোরিয়া,চার্চম্যাকডোনাল্ট, ব্রঙ্কসের স্টারলিং-বাংলাবাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য চাঁদ রাতের মেহেদী মেলা। বিপুলসংখ্যক নতুন প্রজন্মসহ প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপচেপড়া ভীড় ছিল এসব মেলা উৎসবে। গভীর রাত পর্যন্ত চলা বর্ণিল এ মেহেদী উৎসবে মেতে ওঠেন তারা।
প্রসঙ্গতঃ জিলহজ্ব মাসের ১০ তারিখ পবিত্র ঈদুল আজহা। আকাশে যে চাঁদ উঁকি দিয়েছে ৯ দিন আগে,হৃদয়ের গভীরে সেই একফালি বাঁকা চাঁদের ফল্গুধারা বয়ে যায় ঈদের আগের রাত পর্যন্ত। যার রেশ চলে রাতভর, যে রাতের উপমা শুধুই ‘চাঁদ রাত’। এই রাতে মেহেদীর রঙে হাত রাঙিয়ে যেমন উৎসবের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়, তেমনি রীতি-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আবহে এই রাতও ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ।


