বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আগত ্ইমিগ্রান্টদের সন্তানরা পেশাগতভাবে তাদের অভিভাবকদের চেয়ে অনেক এগিয়ে প্রশাসনসহ দেশের সকল কর্মকান্ড, বিশেষ করে অর্থনৈতিক দিক থেকে নিজেদের ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এগিয়ে যাওয়ার মিছিলে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশি অভিবাসী সন্তানদের। উচ্চ শিক্ষা এবং পেশাগত দিক থেকে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর সন্তানদের চেয়েও অনেকাংশে এগিয়ে তারা। যদিও আমেরিকান পন্ডিতেরা মনে করেন যে প্রতিটি আমেরিকান প্রজন্ম তাদের আগের প্রজন্মের চেয়ে উন্নত, তা সত্ত্বেও ইমিগ্রান্টদের সন্তানদের সাফল্য অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক। এখন ইমিগ্রান্টদের আমেরিকান প্রজন্মের অবিশ্বাস্য সাফল্যকেসামাজিক বিবর্তনের অভূতপূর্ব ধারা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। মেক্সিকো থেকে টেক্সাসে আগত ইমিগ্রান্ট পরিবারের সন্তান সোনিয়া বলেছেন, ‘আমার বাবা একটি হোটেলে কাজ করেছেন। তার লক্ষ্য ছিল তার সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের স্কুল, কলেজ ও ভার্সিটিতে যেতে উৎসাহিত করেছেন, যাতে আমরা নিজেরাই আমাদের ভালো কর্মক্ষেত্র খুঁজে নিতে পারি ও গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে না হয়।
এই স্বপ্ন প্রায় প্রতিটি ইমিগ্রান্ট পরিবারের, যারা আমেরিকান ভূখন্ডকে সম্ভাবনার অমিত দিগন্ত বলে বিবেচনা করেন ও সন্তানদের উপযুক্ত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারেন। ১৮৮০ সাল থেকে ১৯৪০ সাল এবং এরপর ১৯৮০ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইমিগ্রান্ট পরিবারগুলোর ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে অতীতের তুলনায় বর্তমানে ইমিগ্রান্টদের সন্তানরা অর্থনৈতিক বই বেয়ে ওপরে ওঠার ক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকদের ছাড়িয়ে গেছেন এবং এটাই যদি আমেরিকান ড্রিম হয়, তাহলে ইমিগ্রান্টদের সন্তানরা তা যথার্থই অর্জন করেছে। সবচেয়ে লক্ষ্যনীয় ব্যাপার হচ্ছে, ইমিগ্রান্টদের সন্তানরা মাঝারি আয়ের নিচে আয় অথবা দারিদ্রসীমার ওপরে আয় সম্পন্ন পরিবারের সন্তান এবং তারা সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রান্ট পরিবারের প্রথম আমেরিকান প্রজন্ম। তারা স্কুলে গেছে, বাবা-মা তাদের স্কুলে যেতে উৎসাহিত করেছেন এবং হাইস্কুল শেষ করে কাজ শুরু করতে উৎসাহিত না করে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য পাঠিয়েছেন। প্রথম প্রজন্মের অধিকাংশ সন্তান বাবা-মার স্বপ্ন পূরণে আগ্রহী হয়ে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে এবং তারা বহু কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, আইটি প্রতিষ্ঠানে বিপুল বেতনে চাকুরি করছে, যা একদিকে ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির জন্য সুখকর এবং বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট পরিবারের জন্য কষ্টের অমানিশার অবসান।
একটি সময় পর্যন্ত আমেরিকা ইউরোপীয় ইমিগ্রান্টদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু আমেরিকার ইমিগ্রেশন আইনে বহু পরিবর্তন এসেছে। একশ বছর আগে আমেরিকান ভূখন্ডে প্রায় আশি শতাংশ ইমিগ্রান্ট এসেছে ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে, যা এখন ব্যাপকভাবে বদলে গেছে ইমিগ্রেশন আইনে নতুন নতুন বিধি সংযোজন ও পরিবর্তনে কারণে। এখন বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া ইউরোপীয় দেশগুলোর পরিবতে সমগ্র বিশ্ব থেকে ইমিগ্রান্ট আসছে। ভারত, চীন থেকে আসছে প্রচুর পরিমাণে। মেক্সিকো এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকের ইমিগ্রান্টদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের দ্বিতীয় দেশের মতো এবং তাদের সন্তানরা আমেরিকার মূলধারায় ভালো করছে, যা একশ বছর আগে করেছে ইউরোপীয়দের প্রথম আমেরিকান প্রজন্ম। যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকেদের কাছে ইমিগ্রান্ট কমিউনিটি যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সম্পদ নিয়ে আসছে এবং তা হচ্ছে তাদের সন্তানদের দক্ষতা, যা আমেরিকান অর্থনীতিতে বিপুল অবদান রাখছে। ইমিগ্রান্টদের সন্তানরা তাদের বাবা-মার ঋণ পরিশোধ করার চেয়ে অনেক বেশি আয় করছে তাদের দ্রুত সাফল্যের মাধ্যমে।


