সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : ‘ককরোচদের’ ঠেকাতে ভারতের দিল্লি জুড়ে দিনভর দুর্ভেদ্য প্রাচীর তুলে রাখল স্বৈরাচার মোদি সরকারের পুলিশ।
নিরাপত্তার কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দিল্লি থেকে অন্য কোন নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলে, সোসাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে একটি খবর ছড়িয়ে পরেছে।

শনিবার দিল্লির রাস্তায় পুলিশ। ছবি: পিটিআই।
দেশের সিংহভাগ মানুষ মনে করছেন, নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফ্যাসিবাদী কায়দায় ককরোজদের আন্দোলন দমাতে চাচ্ছেন। বিজেপি সরকারের এই হটকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে সোসাল মিডিয়ায় তাদের দুইজনসহ বিভিন্ন প্রকারের শত শত কার্টুন প্রকাশ করা হচ্ছে। তা ছাড়া আন্দোলনকে ঘিরে নানা গুজবও ছড়িয়ে পড়ছে।
পিটিআই সূত্রের খবর, ১০০০০-এরও বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন। শনিবার দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপ ও গণ আটকের ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করে বিবৃতি দেয় জাতিসংঘ। যেখানে বলা হয়েছে, এই বিক্ষোভে পুলিশ যাদের আটক করেছে তাঁদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

শনিবার ভোর থেকে দফায় দফায় চলল ধরপাকড়। নাছোড় আন্দোলনকারীরাও। একটি দল এক জায়গা থেকে আটক হচ্ছে, তো পরক্ষণেই অন্য কোথাও অন্য একটি দল আবার বসার চেষ্টা করছে। সারা দিন ধরে এমন বিভিন্ন রণক্ষেত্রের ছবি ধরা পড়ল দিল্লিতে। তবে আন্দোলনকারীদের কাউকেই কোথাও থিতু হওয়ার সুযোগ দেয়নি পুলিশ। এ দিন বাধা পাওয়ার পরে রবিবার ফের যন্তর মন্তর অভিযানের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
যন্তর মন্তর অভিযান ঠেকাতে এ দিন দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশনসহ স্কুল-কলেজ,বাস ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে রাখে প্রশাসন। আন্দোলনকারীরা যাতে যন্তর মন্তর পর্যন্ত পৌঁছোতে না-পারেন, সে জন্য বাতিল করা হয় অন্তত ২৫০টি ট্রেন। এর মধ্যে বহু দূরপাল্লার ট্রেনও রয়েছে।

রাজধানীর কিছু এলাকায়, বিশেষত যন্তর মন্তর লাগোয়া এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার আওতায় জমায়েতও নিষিদ্ধ করে দেয় পুলিশ।
এ বার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ‘ককরোচদের’ যন্তর মন্তর অভিযানে অবশ্য আগে থেকেই সজাগ ছিল পুলিশ-প্রশাসন। এর আগে গত জুলাইয়ে নিট-প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলন শুরু হয়েছিল যন্তর মন্তর থেকেই। ছাত্র-যুবদের সেই বিক্ষোভে চরম ধাক্কা খেয়েছিল শাসকশিবির। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। আন্দোলনের চাপের মুখে সেই প্রথম পদত্যাগ করতে হয় মোদী সরকারের কোনও মন্ত্রীকে।
আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয়ে যায় ধরপাকড়। দিল্লির বিভিন্ন হস্টেল এবং মেসবাড়িগুলিতে সন্দেহভাজনদের খোঁজে চলে পুলিশি অভিযান। মেট্রো স্টেশনগুলিতে যাতায়াতের উপরেও বাড়ানো হয় নজরদারি।
যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সবগুলি রাস্তায় বসানো হয় পুলিশি ব্যারিকেড। দিল্লির সীমানায় বসে চেকপয়েন্টও। ভিন্রাজ্য থেকে প্রতিটি গাড়ির যাত্রীদের আটকে দেওয়া হয়।
গোটা মধ্য দিল্লি জুড়ে এ দিন ছিল শুধু ভারী বুটের টহল। সিজেপির যন্তর মন্তর অভিযান আটকাতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলিয়ে মোতায়েন ছিল প্রায় একলাখ নিরাপত্তাকর্মী। এর মধ্যে ভিন্রাজ্য থেকে নিয়ে আসা বাহিনীও রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লির মাটিতে পা ফেলামাত্রই আটক হন। তাঁদের উড়ান দিল্লিতে অবতরণ করতেই বিমানের ভিতরে প্রবেশ করেন পুলিশকর্মীরা। দুপুরে আটক হন আইসা নেত্রী নেহা বোরাও।
শনিবার রাতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান দিল্লির ঘটনায় এক বিবৃতি জারি করেন। যেখানে বলা হয়েছে, ‘আজ দিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভ চলাকালীন ও বিক্ষোভের আগে বিক্ষোভকারী, প্রতিবাদী নেতা, নাগরিক আইনজীবী ও সাংবাদিকদের গণ আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় আমরা ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন।’ এক্ষেত্রে জাতিসংঘের তরফে ৩টি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, ১.শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে সম্পূর্ণরূপে সম্মান করতে হবে। প্রতিবাদে যে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি হলে সেই পদক্ষেপের সিদ্ধান্তকে কঠোর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। ২. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চরম সংযম দেখাতে হবে, যা ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও মানবাধিকার বিষয়ক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এবং ৩. যাদের নির্বিচারে আটক করা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে ও নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে। রাষ্ট্রসংঘ আরও বলেছে, বিক্ষোভকারীরা যে ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করছে তাঁদের সেই উদ্বেগ নিরসনে কর্তৃপক্ষকে আলোচনায় বসতে হবে এবং তাঁদের উদ্বেগ নিরসন করতে হবে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জ্ঞানেশের সিদ্ধান্তের ফলে সুবিধা পেয়েছে শাসকদল বিজেপি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ধারাবাহিক সুর চড়াচ্ছে তারা। আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক। সংবাদের সব কার্টুন সোসাল মিডিয়া থেকে নেয়া- সম্পাদক।


