সন্ধান২৪.কম: ‘রাষ্ট্রধর্ম বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ শীর্ষক এক সেমিনার ও মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে ওপেন আইজ,নিউইয়র্ক। ১১ মে শনিবার,জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেষ্টুরেন্টে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে বক্তারা এই বিতর্কিত রায় বাতিল করে ৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতি পুণর্বহালের দাবী জানান।
বর্ষীয়ান সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদউল্লাহ সভাপতিত্বে শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের অন্যতম সদস্য মুজাহিদ আনসারী । সেমিনারে মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্র উদীচীর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস। সেই আলোচনার উপর বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র প্রোগ্রেসিভ ফোরামের প্রাক্তণ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদুল ইসলাম।
সেমিনারের পর মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র একুশে চেতনা পরিষদের সভাপতি ড. ওবায়দুল্লা মামুন, গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম যোদ্ধা জাকির আহমেদ রনি, সাংস্কৃতিক কর্মী সনজীবন কুমার, সাংস্কৃতিক কর্মী শিবলী সাদেক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন রাজনীতিক জাকির হোসেন বাচ্চু। অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন সাংবাদিক তোফাজ্জল লিটন।
মূল আলোচক সুব্রত বিশ্বাস বলেন, ১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতিতত্তে¡র ভিত্তিতে পাকিস্তানের সাথে আমরা যুক্ত হয়েছিলাম। একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্ম। তারপর জেনারেল জিয়া ক্ষমতায় এসে সংবিধানে ’বিসমিল্লাহ’ অন্তর্ভুক্ত করেন। স্বৈরাচার এরশাদ ১৯৮৮ সালে অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে ’রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ সংবিধানে সংযুক্ত করে নেন। স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির পক্ষে এই বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন দেশের ১৫জন বরেণ্য ব্যক্তি।
তিনি বলেন,রিট আবেদনের ২৩ বছর পর ২০১১ সালের ৮ জুন হাইকোর্ট রুল দেন।তারই ধারাবাহিকতায় রীটের ৩৬ বছর পর এবার আদালত রায়ের অভিমতে বলা হয়,ওই সংশোধনীর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ২ক যুক্ত করে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। তথা ধর্মনিরপেক্ষতার সাথে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সাংঘর্র্ষিক নয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা মনে করি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ধর্মনিরপেক্ষতা তথা বাহাত্তরের সংবিধানের সাথে অবশ্যই সাংঘর্ষিক। দুঃখের বিষয় রায়ের পর সপ্তাহ দু’তিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত সরকারের কোনও প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। সরকারের নীরব ভূমিকায় দেশের জনগণের মনে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
সভাপতির ভাষণে সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি বুঝতে কোন উকিল বা ব্যারিষ্টার হওয়ার প্রয়োজন নাই। তিনি বলেন, সংবিধানের মূলনীতি কোন বিচার বিভাগ বা সংসদ পরিবর্তন করতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন হয় গণভোটের। একমাত্র জনগণই সংবিধানের মূলনীতি সংশোধন,পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে পারে। তিনি বলেন,আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালনে আপিল করতে হবে। আর তার জন্য আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবি,আইনজীবিসহ দেশের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের এখন বেশী বেশী করে মুক্ত বুদ্ধিও চর্চা করতে হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন,আমাদের দেশে এখন তথাকথিত শিক্ষিত সমাজই বেশী মৌলবাদী হয়ে যাচ্ছে।
খোরশেদুল ইসলাম বলেন, মানুষকে অন্ধকারে রাখার জন্যই সরকার বার বার ধর্মকে ব্যবহার করছে। ধর্মের আবরণে যত দিন টিকে থাকা যায় তারই একটি হীন প্রচেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্রকে ধর্মের সাথে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে।
স্বাগত বক্তব্যে মুজাহিদ আনসারী বলেন, রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকতে পারে না। ধর্ম সবাই সামাজিক ও ব্যক্তিগত ভাবে পালন করবে।
শুরুতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) উপদেষ্টা, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, লেখক,মার্ক্সবাদী তাত্তি¡ক ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আকবর খান রনোর স্মরণে দাড়িয়ে কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করা হয়।


