সন্ধান২৪.কমঃ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, নতুন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে বিএনপির কোনো প্রত্যাশা নেই ।
সোমবার সকালে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিকালে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব এই কথা বলেন।
শপথ নেওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন একাধিকবার গণমাধ্যমকে বলেছেন যে, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তার অবস্থান থেকে যতটা ভুমিকা পালন করার সেটা করবে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘যতটা ভুমিকা পালন তো আমরা জানি। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার উনার (মো. সাহাবুদ্দিন) সুযোগও নাই আর উনার সেই সাহস আছে বলে আমরা মনে করছি না আরকি।”
‘তার মানে আপনারা তার ওপর আস্থাশীল না?’ প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘তাতে বটেই। এটা তো পরিস্কার বলেছি আমরা।”
রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে আপনাদের প্রত্যাশাটা কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের প্রত্যাশা তো আমরা আগেই বলেছি যে, আমরা কিছুটা হতাশ হয়েছি-যে আমরা যাকে চিনি না, যাকে জাতি জানে না– এ সম্পর্কে খুব বেশি কিছু বলতেও পারব না।”
‘‘এই ধরনের একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে তাকে নিয়ে আসা- এটা আমাদের কা্ছে ডাজ নট ক্লিয়ার, আমরা খুব একটা পরিস্কার নই। সেজন্য সেই প্রত্যাশাটাও আমাদের কাছে অস্পষ্ট এবং একটা আবছা হয়ে যাচ্ছে- তাই না।”
গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিকালে সাংবাদিকদের সাথে আলোপচারিতায় বিএনপি মহাসচিব এই প্রতিক্রিয়া দেন। নতুন রাষ্ট্রপতি ছাড়া বিএনপি মহাসচিব দেশের চলমান সংকট, আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময়ে দলের ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।
নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়ে কোনো কমেন্ট নেই :
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ এবারকার রাষ্ট্রপতি নিয়োগটা কিছুটা আপনার জনগনের কাছে একটা হঠাত করে অপ্রত্যাশিত ভাবে এসেছে। আমি বর্তমানে যে রাষ্ট্রপতি শপথ নিয়েছেন ব্যক্তিগতভাবে তার সম্পর্কে আমি কোনো কমেন্ট করতে চাই না।”
‘‘এটা, এই নামটা (মো. সাহাবুদ্দিন) জনগনের কাছে একেবারে আসেনি, পরিচিতও ছিলো না। ফলে এখানে একটা সংকট (চলমান সংকট) কাটিয়ে উঠার ব্যাপারে একটা সন্দিহান, একটা প্রশ্ন আছে মানুষের কাছে উনি কি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। পত্র-পত্রিকার তার যে ব্যাক গ্রাউন্ড দেখেছি, এটা নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে বা দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রশ্ন রাখিনি। কারণ আমাদের এখানে রাষ্ট্রপতি নিয়ে আগ্রহটা কম। আমরা মূল জায়গাটায় যেতে চেয়েছি। আজকে নির্বাচন প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক নয়, নির্বাচনে আমরা বিরোধী যদি অংশগ্রহন করতে না পারি, একটা নিরপেক্ষ সরকার যদি না হয় তাহলে সব কিছু অর্থহীন হয়ে যাবে। সেইকারণে তার ওপর জোর দিচ্ছি।”
তিনি বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত পাবলিক অভিমত যতটুকু দেখেছি তাতে করে জনগন যে একটা আশস্ত হবে যে একটা আশা করবে, প্রত্যাশা করবে সেই ধরনের কোনো কিছু আমরা দেখিনি পত্র-পত্রিকায়। আজকে শপথ নেওয়ার পরে তিনি কী বলবেন সেটাও আমরা জানি না। কিন্তু ঘটনাগুলো যা ঘটেছে, যে ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছেন তাতে করে পরিস্কার হয়ে গেছে জনগনের কাছে যে প্রক্রিয়ায় তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়েছেন তাতে করে একমাত্র সরকার প্রধান তারই তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) বেশি আস্থাভাজন।”
আন্দোলন এখন বেগবান হবে : চলমান আন্দোলন সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘আপনারা দেখেছেন যে, আমরা আন্দোলন শুরু করেছি, আমাদের এই আন্দোলনে অলরেডি ১৭ জন প্রাণ দিয়েছেন, আমাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, আমাদের শত শত মানুষ এখনো কারাগারে আছে। দি মুভমেন্ট ইজ অন। মাঝখানে রোজা-রমজানের মধ্যেও কিন্তু আমরা আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করেছি। আপনারা দেখেছেন যে, এই কয়েকদিন আগে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি করেছি। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। এখন মুভেমেন্ট আরো বেগবান হবে। সরকারের আচরণের ওপর নির্ভর করবে মুভমেন্টের ধরণ কি হবে, জনগনই সেটা সিদ্ধান্ত নেবে।”


