সন্ধান২৪.কম: নিউইয়র্কে ড. ইউনূসের আগমণকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী গ্রহন করেছে আওয়ামী ও বিএনপি। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী ঘোষনা করেছে,‘যেখানেই ইউনুস সেখানেই প্রতিরোধ’। অপর দিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিউইয়র্কে স্বাগত জানাবে। দুই দলের কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আওয়ামী লীগ : বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে সরকার প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে আগমণকে কেন্দ্র করে তাকে প্রতিহতের ঘোষণাও দিয়েছে দলটি।
গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। এ সময় জানানো হয় ড. ইউনূসের নিউইয়র্ক আগমনের দিন জেএফকে বিমানবন্দরে এবং পরবর্তীতে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে দলের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করা হবে। ৫ আগস্টের পর দেশের ৫ হাজারের বেশি মানুষ খুন হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ। এ সময় নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান মিয়া, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীগ নেতা মোহাম্মদ সোলায়মান আলী, বাবু, একেএম তরিকুল হায়দার চৌধুরী, আব্দুল হামিদ, শাহানারা রহমান, বদরুজ্জামান পান্না, আশরাফ, এইচ এম ইকবাল, সৈয়দ কিবরিয়া জামান, প্রকৌশলী বাহার খন্দকার সবুজ, পান্না, খান শওকতসহ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতরা উপস্থিত ছিলেন।
ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেননি। তাই সংবিধান অনুসারে তিনিই এখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তাই বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার অবৈধ। তাই এই অবৈধ সরকারের প্রধানের কোন অধিকার নেই বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে জাতিসংঘে আসার। সাধারণ মানুষ, পুশিল ও আওয়ামীলীগ কর্মীসহ হাজার হাজার মানুষের রক্তে তার হাত রঞ্চিত। তিনি হাফ নবেল লরিয়েট। তিনি বলেছেন, ছাত্ররই তাকে এই চাকরী দিয়েছে। কিন্তু সরকার চলে জনগনের ম্যান্ডেট নিয়ে। তাই সরকার প্রধান পদে থাকার কোন অধিকার তার নেই। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সামাদ আজাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে হাতিয়ার বানিয়ে অসাংবিধানিক ভাবে জোরপূর্বক অন্তবর্তীকালীন দখলদার সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূস দেশে নৈরাজ্য ও পৈশাচিক হত্যাকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। ১২ সেপ্টেম্বরও ৫ জনকে গ্রেফতার করে দু’জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ৫ আগস্টের পর পাঁচ হাজারের অধিক পুলিশ, ছাত্র, সংখ্যালঘু, সাধারণ মানুষ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী হত্যা করেছে। আনুমানিক দশ হাজার নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে। দমন নীতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে দেশে আইন বিচার বলে কিছুই নেই। প্রচলিত আইন ভঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে স্কুল শিক্ষকদের ছাত্রদের দ্বারা পদত্যাগে বাধ্য করার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুমহে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের অবস্থা আরও করুণ। যা স্বাধীনতার ৫৩ বছরে ঘটেনি। দেশের জনগণ শান্তিতে বসবাস করতে পারছে না।
ড. ইউনূসকে সফল সুদের ব্যবসায়ী উল্লেখ করে আজাদ বলেন, তিনি নিজেই বলেছেন ছাত্ররা তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। তাই সংবিধান লঙ্ঘন করে জনগণের ম্যান্ডেট না নেয়া অবৈধ প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করার যে কোন মানদন্ডে আইনগত বৈধতা নেই। যদি অবৈধ প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আসেন তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ২২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় জেএফকে বিমানবন্দরে এবং ২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকাল ১১টায় জাতিসংঘের সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে। অবৈধ সরকারের অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক, গণহত্যা ও দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টির বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
বিএনপি
বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আসছেন। এদিন তাঁকে বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পক্ষ থেকে স্বাগত জানাবার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিএনপির শতশত কর্মীরা এদিন ব্যানার ফেস্টুন, ফুল নিয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে ¯েøাগানে ¯েøাগানে মুখরিত করে রাখবেন। এছাড়া আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তিনি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে ভাষণ দেবেন। এদিন বিএনপির পক্ষ থেকে জাতিসংঘের সামনে স্বাগত সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির কথা আজকাল’কে গত বুধবার ফোনে জানান বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি গিয়াস আহমেদ।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের অভিযোগে সজিব ওয়াজেদ জয় এবং শেখ রেহানাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের দাবি জানানো হবে স্বাগত সমাবেশ থেকে। নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেইট থেকে এদিন জাতিসংঘের সামনে স্বাগত সামাবেশে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের শতশত সদস্য অংশগ্রহণ করবেন বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তারা আশা করছেন, ড. মোহাম্মদ ইউনূসের আগমনকে ঘিরে যারা হঠকারী কাজ করবে তাদেরকে প্রবাসি বাংলাদেশিরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করবে। ড. মোহাম্মদ ইউনূস কোন রাজনৈতিক দলের নেতা নন। দেশে স্বৈরাচারের পতনের পর তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন আপামর মানুষের জন্য কাজ করার উপযোগি এবং আগামীতে নব প্রজন্ম যাতে ব্যাপক উদ্যোগে প্রথমবারের মতো নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারেন সেই পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখছেন।


