সন্ধান২৪.কম : “যেখানে তারেক—সেখানেই প্রতিরোধ” কর্মসূচি উপলক্ষে নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সম্মেলন থেকে, ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারেক রহমানের নিউ ইয়র্ক অবস্থানকালে অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণ থেকে শুরু করে তার নিউ ইয়র্ক ত্যাগ করা পর্যন্ত “যেখানে তারেক—সেখানেই প্রতিরোধ” সূচী ঘোষনা করা হয়।
গতকাল ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় জ্যাকসন হাইটসের একটি রেষ্টুরেন্টে। সংবাদ সম্মেলনে মিছিল, বিশৃঙ্খলা,অব্যবস্থাপনায় উপস্থিত সাংবাদিক ও কয়েকজন নেতা বিরক্তি ও ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন,দলের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুর রহমান ইমদাদ। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেস্টা ডা. মাসুদ হাসান, বিদ্রোহী আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুর রহমান, ইমদাদুর রহমান ইমদাদ প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যের একটি অংশে বলা হয়,‘গত ১২ ফেব্রুয়ারির সান্ধ্য ভোট তথা পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত অবৈধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র আসছেন।’
লিখিত বক্তব্যে বলা হয় ‘বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতা বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির হাতে অবরুদ্ধ। তাঁদের কারণে দেশ আজ খুন, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, বলাৎকার, দুর্নীতি, চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।’
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয় ‘আমরা মনে করি দেশ পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা ও এই ভয়াবহ সংকটের জন্য এই অবৈধ বিএনপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পূর্ণভাবে দায়ী এবং সেই জন্য জাতিসংঘের আসন্ন ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ এবং ভাষণ দেয়ার কোন অধিকার তার নেই। সুতরাং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারেক রহমানের নিউ ইয়র্ক অবস্থানকালে অর্থাৎ ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণ থেকে শুরু করে তার নিউ ইয়র্ক ত্যাগ করা পর্যন্ত “যেখানে তারেক—সেখানেই প্রতিরোধ” কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারেক রহমানের আগমনের প্রতিবাদে ২১ সেপ্টেম্বর জেএফকে এয়ারপোর্টের সামনে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ হেডকোয়ার্টারের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একাংশের নেতার উপস্থিতি,যুবলীগের মিছিল, দলের নেতাদের বক্তব্য, বিশৃঙ্খলা,অব্যবস্থাপনায় উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক ও আওয়ামী লীগের নেতাকে বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
সংবাদ সম্মেলন চলার সময়ে যুবলীগের একটি মিছিল মিলনায়তনে প্রবেশ করে নানা রকম শ্লোগান দিতে থাকে। এসময় বার বার ইমদাদুর রহমান ইমদাদ শ্লোগান থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সংম্মেলনের স্বাভাবিক পরিবেশন নষ্ট হলে কয়েকজন আওয়ামী লীগের নেতা প্রতিবাদ করলে শ্লোগান থেমে যায়।
মঞ্চে শুধুমাত্র নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের আসন গ্রহন করার রীতি থাকলেও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা মঞ্চ দখল করে বসেন। এ সময় চেয়ার ঠেলাঠেলিতে এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে,বিদ্রোহী আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীকে মঞ্চে আসন গ্রহন করা ও তার বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে উপস্থিত কয়েকজন আওয়ামী সমর্থক প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীকে মঞ্চে নেয়া ও তাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ করে দিয়ে নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি কি আরও প্রকট হয়ে উঠলো ?
সংবাদ সম্মেলন চলার সময় সংবাদ সম্মেলনের সকল নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে দর্শকসারী থেকে দলের এক নেতা ম্যারাথন বক্তব্য দিতে থাকেন। এ সময় কয়েকজন সাংবাদিক প্রতিবাদ করলে আয়োজকরা তাকে বসিয়ে দেয়।
এ ছাড়াও মিলনায়তনের সামনের সারির প্রায় সব চেয়ার মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দখল করে বসেন,ফলে অনেক সাংবাদিককে বাধ্য হয়ে পিছনে বসতে হয়েছে।


