সন্ধান২৪.কমঃ নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যলয়ে একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে কনসাল জেনারেল ও উপস্থিত কয়েকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

গত ১৫ আগষ্ট নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করে। শোক অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসানকে আলোচনার জন্য মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবেগতারিত হয়ে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্থানি বাহিনীর পক্ষ নিয়ে যে ব্যক্তি ১২জন মানুষকে হত্যা করেছে, এই কনস্যুলেট অফিসে তাকে বক্তব্যে জন্য অতিথি করে আনা হয়। যা জাতীর জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। এসময় উপস্থিত অনেকেই ডা. মাসুদের কাছে সেই হত্যাকারীর নাম জানতে চান। তখন ডা. মাসুদ বলেন, এই অনুষ্ঠানে আমি তার নাম বলতে চাই। এ সময় মিলনায়তনে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মিলনায়তনে উপস্থিত সব মুক্তিযোদ্ধা,আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও সুধীজনরা দাঁড়িয়ে সেই ব্যক্তির নাম জানতে চান। এ সময় ডা. মাসুদ আবার বলেন, এখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী আছেন,তিনিও সেই ব্যক্তির নাম জানেন। তখন আব্দুল মুকিত চৌধুরী ও ডা.মাসুদুল হাসান বলেন, তিনি হচ্ছে হবিগঞ্জের লিয়াকত আলী। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই কুখ্যাত ব্যক্তি ১২ জনকে হত্যা করেছে। এ সময় অনুষ্ঠানে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি ও ছন্দপতন ঘটলে কনসাল জেনারেল ও কয়েকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে ডা. মাসুদুল হাসানের এই সাহসী বক্তব্যের জন্য উপস্থিত অনেকেই প্রশংসা করে তাকে অভিনন্দন জানায়।

ওই দিন রাতে ডা. মাসুদুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বর্তমান কনস্যাল জেনারেল আসার আগে খুনী লিয়াকত আলীকে কনস্যুলেট অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানের পরে লিয়াকত আলীর বিষয়টি সেই সময়ের কনসাল জেনারেলকে অবগত করা হয় । ডা. মাসুদ ফোনে বলেন,অবশ্য সেই সময়ের কনসাল জেনারেল জানতেন না যে, লিয়াকত ১২ জনকে হত্যা করেছে। এটি জানার পর আর কোন দিন লিয়াকতকে কোন অনুষ্ঠানে ডাকা হয় না।
এ ব্যাপারে সিলেটের নিউইয়র্ক প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাজাকার ও পাকিস্থানী বাহিনীর সহযোগিতায় লিয়াকত আলী ৩০ জন হিন্দুকে হত্যা করে।
মাসুদুল হাসান ফোনে আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী, স্বাধীনতার বিপক্ষের শত্রু, বঙ্গবন্ধুর খুনী ও শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও ঘাপটি মেরে সমাজের প্রতিটি স্তরে লুকিয়ে আছে। তারাই সরকারী,বেসরকারী, আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সম্মানিত হচ্ছে। এদেরকে প্রতিহত না করলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে বিকেলে স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী ও ‘জাতীয় শোক দিবস’ পালন করে। এ উপলক্ষে কনস্যুলেটে দু’ পর্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম নিয়ে এক উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং দ্বিতীয় পর্বে বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের উপর আলোকপাত করে “The Vision of Bangabandhu in Global Context” শীর্ষক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটিতে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন ল্যু, নিউইয়র্ক ডিস্ট্রিক্ট-২৪ এর এ্যাসেম্বলি মেম্বার ডেভিড উইপ্রিনসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকগণ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।


