সন্ধান২৪.কম : ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কি সত্যি জীবিত ? না কি মৃত? আহত হয়েছেন? গত কয়েক দিন ধরে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে বহু জল্পনা ছড়িয়েছে। কিন্তু এমন জল্পনার কারণ কী?
নেতানিয়াহুর ওই ভিডিয়োগুলি পর পর পোস্ট হওয়ার কারণেই মানুষের মনে সন্দেহ দানা বেঁধেছে । দাবি উঠেছে, ওই ভিডিয়োগুলিতে নেতানিয়াহুকে ‘জোর করে জীবিত দেখানোর’ চেষ্টা চলছে।
নেতানিয়াহুর পুত্র ইয়াইর
কিন্তু ওই ভিডিয়োগুলি প্রকাশ্যে আসার পরেই প্রশ্ন উঠেছে, কোথায় ‘বিবি’ (ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ডাকনাম। রাজনৈতিক মহল এবং গণমাধ্যমেও নামটি বহুল স্বীকৃত)? পাশাপাশি জল্পনা ছড়িয়েছে, তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু সেই খবর যাতে প্রকাশ্যে না আসে, তাই ওই সব ভিডিয়োর মাধ্যমে তাঁকে জীবন্ত প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা করছে ইজরায়েল।
ইরান এবং আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রথম থেকেই ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে ইরান। এর পর পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর গত কয়েক দিন ধরে দাবি উঠেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন নেতানিয়াহু।
দাবি উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ হিসাবে একাধিক ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এনে তাঁর মৃত্যু সংক্রান্ত দাবিগুলি খণ্ডন করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে ইজরায়েল। তবে সেই ভিডিয়ো ক্লিপগুলো জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটানোর পরিবর্তে নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

প্রথমে ১৩ মার্চ, পরে ১৫ মার্চ নেতানিয়াহুর একটি করে ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে। ১৫ মার্চের ভিডিয়োতে তাঁকে একটি কফি কাপ হাতে বক্তৃতা করতে দেখা যায়। সেই ভিডিয়োয় তাঁর মৃত্যুর খবর গুজব বলেও দাবি করতে দেখা যায় খোদ ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে।
১৫ মার্চের সেই ভিডিয়োয় নেতানিয়াহুকে কফির কাপ হাতে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘‘কফির জন্য আমি মরতে রাজি। আমি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি।’’ এর পর তিনি দুই হাতের আঙুল তুলে ক্যামেরায় দেখাতে শুরু করেন। কারণ ১৩ মার্চ ভিডিয়োটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন সূত্রে দাবি উঠেছিল যে নেতানিয়াহুর ডান হাতে ছ’টি আঙুল রয়েছে। কিন্তু সেই ভিডিয়োয় ডান হাতের ছ’টি আঙুল দেখা যায়নি।
তবে ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত হতেই সেটি ভুয়ো বলে জল্পনা শুরু হয়। সেই প্রশ্নের উত্তরে গ্রোক জানিয়েছে, এটি আসলে কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিয়ো। গ্রোক জানিয়েছে, ভিডিয়োটি ১০০ শতাংশ ডিপফেক। নেতানিয়াহু একটি ক্যাফেতে কফি খাচ্ছেন, বাস্তবে তেমন কিছু ঘটেনি। যেহেতু ভিডিয়োটি নেতানিয়াহুর নিজস্ব সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছিল, গ্রোকের প্রতিক্রিয়া বিতর্ক আরও উস্কে দেয়।
আবার নেতানিয়াহুর পুত্র ইয়াইর নেতানিয়াহু সর্ব ক্ষণ সমাজমাধ্যমে সক্রিয় থাকেন। দিনে বহু পোস্ট করেন তিনি। রহস্যজনক ভাবে ইয়াইরও একেবারে চুপ। সমাজমাধ্যমে গত ৯ মার্চ থেকে তিনি নিষ্ক্রিয়। আর সেই বিষয়টিও নেতানিয়াহুর মৃত্যু-জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।


