সন্ধান২৪.কম : পশ্চীমবঙ্গে পঞ্চায়েত ভোটে হিংসা, খুনোখুনির অভিযোগ উঠেছে ক্রমাগত। এবং এর দায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেই রাজ্যের নির্বাচন কমিশন রাজীব সিংহ নিতে হবে বলে রাজ্যের বিশিষ্টজনরা তাদের অভিমত ব্যক্ত করছেন।

রাজ্যের সাতটি জেলায় হিংসার জেলে প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে। ওই সাত জেলায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্যালট লুট, ব্যালট বাক্সে আগুন, জল ঢালার অভিযোগও উঠেছে। অনেক জায়গায় প্রিসাইটিং অফিসার ভোটের আগের রাতে উধাও হয়। প্রায় সব জায়গায় তৃণমূল দল ভাড়াটে গুন্ডাবাহিনী ব্যবহার করে।
হিসাব বলছে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে সব মিলিয়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শাসক-বিরোধী নির্বিশেষে আক্রান্ত সকলেই। কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচনে অশান্তির তত্ত্ব কার্যত খারিজ করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। এরাজ্যের শাসকদলের সাফ দাবি, মুষ্টিমেয় কয়েকটি বুথে অশান্তি হয়েছে ঠিকই তবে মোটের উপর উৎসবের মেজাজে ভোট হয়েছে। রাজ্যের মানুষ নির্বিঘ্নে তৃণমূলের পক্ষে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

ভোটের দিনেও হিংসা থামেনি মুর্শিদাবাদে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত সেখানে মারা গিয়েছেন পাঁচ জন। সেখানে দুই তৃণমূল কর্মীকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। নিহত এক কংগ্রেস এবং সিপিএম কর্মীও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে নিহত তৃণমূল কর্মী। কোচবিহারের ফলিমারি গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোটেরহাট ৪/৩৮ নম্বর বুথে বিজেপির এজেন্টকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। দিনহাটায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বিজেপি কর্মীর। মালদহের মানিকচকে তৃণমূল কর্মীকে খুনের অভিযোগ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ইংরেজবাজারে বোমাবাজিতে নিহত তৃণমূল প্রার্থীর শাশুড়ি। নদিয়ার চাপড়ায় তৃণমূলের এক কর্মীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। গোয়ালপোখরেও শাসকদলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় নিহত তৃণমূলের এজেন্ট। গোয়ালপোখরে এক কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নাম মহম্মদ জামিরউদ্দিন। যদিও রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিংহ শনিবার দুপুরে জানান, ভোটের দিন তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রাজ্য পুলিশের বিষয় নির্বাচন কমিশনের কাজ ‘ব্যবস্থাপনা’। সেই কাজটা কমিশন করেছে। অশান্তির অভিযোগ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার এসপি, জেলাশাসককে জানিয়েছে।

মনোনয়ন পর্ব থেকেই রাজ্যে হিংসার অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের সব ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে বিরোধীরা দ্বারস্থ হন হাই কোর্টের। হাই কোর্ট ৮২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর নির্দেশ দেয়। জানায়, সব ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য রাখতে হবে। যদিও শেষ পর্যন্ত রাজ্যের সব ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছতে পারেননি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যেরা। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিংহ জানিয়েছেন, ৬০ হাজার বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত এক চতুর্থাংশ ভোটেই তারা রয়েছে। তার পরেও হিংসার অভিযোগ থামেনি।
পঞ্চায়েত ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে আজব কাণ্ড! রাতারাতি উধাও হয়ে গেলেন প্রায় ৭০০ প্রিসাইডিং অফিসার সহ বহু ভোটকর্মী। শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ঘটনা। বিষয়টি সামনে আসার পর রীতিমতো ফ্যাসাদে পড়ে জেলা প্রশাসন। তোলপাড় শুরু হয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে। রিজার্ভে থাকা ভোটকর্মীদের কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়। বেপাত্তা হয়ে যাওয়া ভোটকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়ে দেন জেলা প্রশাসনের কর্তারা।


