সন্ধান২৪.কম : ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তান সারাবিশ্বে জঙ্গি রাষ্ট্র সৃষ্টির পাঁয়তারা সহ আইএসকে মদদ দিচ্ছে , এমনটাই অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ। শুক্রবার (জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের সমন্বয়ে এক মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ এ দাবি করেন।

পাকিস্তানে উগ্রবাদী গোষ্ঠী একের পর এক উপাসনালয় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও সংখ্যালঘু নির্যাতন করে চলছে। এ্রর প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশ শেষে পরিষদের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশস্থ পাকিস্তান দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল নিয়ে রওনা দেন। সারাবিশ্বে কোথাও যেন হিন্দুসহ কোনো সংখ্যালঘুর ওপর অত্যাচার, নিপীড়ন না হয় সেজন্য জোর দাবি জানান। সমাবেশে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু যুব পরিষদ ও হিন্দু স্বেচ্ছাসেবক জোটের অর্ধশতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে আইনজীবী সুমন কুমার বলেন, পাকিস্তানের হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে থাকতে হয়। বাসস্থান, সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়াসহ জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। অমানবিক অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বহু হিন্দু পরিবারই এখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।

সাধারণ সম্পাদক কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কারাক জেলায় একটি মন্দিরে আগুন দেওয়া হয়েছিল এবং ভাঙচুর করা হয়েছিল। মন্দিরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তিগুলি রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় গোটা পাকিস্তানের হিন্দুরা ক্ষুব্ধ হলেও ইমরান খানের প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সে এলাকার হিন্দুরা ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করতে পারেননি।
হিন্দু পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্ব আজকে যখন মানবতার কথা বলছে তখন পাকিস্তান ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান যে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র ও আইএসের মদদদাতা, সে হিসেবে তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। একইসঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্র, মানবাধিকার সংগঠনের কাছে আমাদের অনুরোধ, পাকিস্তানের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করুন।তাই সারাবিশ্বের মানবতাবাদী মানুষ ও সম্প্রদায়কে নিয়ে এই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।


