সন্ধান২৪.কম প্রতিবেদন : যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ফোবানায় মারামারি-ধাক্কাধাকি এবং উপস্থিত দুটি শিশুর আতঙ্কিত হওয়ার ঘটনা সোসালমিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ৪ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে ঘটলেও আজ সোমবার তা সোসাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
জামাত-বিএনপি ঘরানার এই ফোবানায় নিউ ইয়র্কের অনেক সাংবাদিক উপস্থিত থাকলেও, কোন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ায় এ ঘটনা প্রকাশ না হওয়ায়, অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র থেকে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর ফোবানার উদ্বোধনী দিনের অনুষ্ঠান দুই/একজনের স্বেচ্ছাচারিতায় ব্যাপক অব্যস্থাপনা, অনিয়ম,অর্থ লুটপাট, বিশৃঙ্খলা ও অপরিকল্পিত ভাবে শেষ হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ৪ সেপ্টেম্বর শনিবারও চলতে থাকে। সেই সাথে সম্মেলনের আয়োজক সংগঠন ‘স্বাদেশ’ বিরুদ্ধে অর্থ লুটপাটের অভিযোগও তোলা হয়।
এ ব্যাপারে ‘ফোবানা নিউইর্য়ক গ্রুপ’ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন প্রতিবাদ করেন। তারা ষ্টিয়ারিং কমিটির সাথে বসে অনুষ্ঠানসূচী তৈরী করার দাবী করেন। কিন্ত ফোবানার অন্যতম কর্মকর্তা শরাফত হোসেন বাবু এবং বাবু সমর্থিত গ্রুপ তাদের এই দাবীকে অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখান করেন। সুত্র থেকে জানা যায়, এই নিয়ে শরাফত হোসেন বাবু ও কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজমের মধ্যে প্রথমে শুরু হয় কথা কাটাকাটি। এর পর সোসাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে যাওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাবু ‘শাটআপ’ ‘শাটআপ’ বলে আজমকে গালি দেন, এর প্রতিউত্তরে আজম ‘ইউ শাটআপ’ বলে বাবুকেও গালি দেন। শরাফত হোসেন বাবু এর এক পর্যায়ে কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজমকে বাহাত দিয়ে থাপ্পর মারেন আর আজম ডান দিয়ে বাবুকে থাপ্পর দেন। শুরু হয় মারামারি। আজম সমর্থিত কয়েকজন বাবুকে ধাক্কা দিয়ে মাটিয়ে ফেলে দিয়ে লাথি দেন বলে জানা যায়। এর পর পুরো মিলনায়তনে বিক্ষিপ্ত ভাবে গালাগালি,ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। সেখানে উপস্থিত কয়েকজনকে ‘বাবু ভাই, বাবু ভাই, চুপ্ থাকেন প্লিজ’ বলতে শোনা যায়। আসিফ বারী টুটুল বলতে থাকেন, “চুপ্ একেবারেই চুপ্,প্লিজ।”


আজমের পক্ষ নিয়ে আলী ইমাম শিকদার বাবুর দিকে তেড়ে গিয়ে বলেন,হোয়াট ইট থিংঙ্ক এবাউট, এতবড় সাহস হয়ে গেছে। আমাদের দিন শেষ।”
আরও পড়ুন :
ফোবানা নিয়ে তাসের মাহমুদের লেখা এবং বিভিন্ন জনের কিছু মন্তব্য
ফোবানা নিয়ে তাসের মাহমুদের লেখা এবং বিভিন্ন জনের কিছু মন্তব্য
এই মারামারি, ধাক্কাধাক্কি ও গালাগালি দেখে মিলনায়তনে উপস্থিত দুইশিশু আতঙ্কিত হয়ে পড়তে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায় । অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তখন কে বা কারা ফোনে পুলিশ ডাকেন। কিন্ত এই কলঙ্কময় ঘটনা যাতে বাহিরে প্রকাশ না হয়, তার জন্য ‘বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে’ বলে হোটেলের বাহিরে থেকেই পুলিশকে বিদায় দেয়া হয়।
আলী ইমাম শিকদার, শরাফত হোসেন বাবু ,কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম,মাকছুদুল হকসহ বেশ কয়েকজনকে ধাক্কাধাক্কি, গালাগালি ও মারামারিতে অংশ নিতে ভিডিওতে দেখা যায়।

এই ঘটনার সত্যতা জানতে শরাফত হোসেন বাবু এবং কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজমের সাথে ফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তা সম্ভব হয় নাই।
পরে আসিফ বারী টুটুলের হস্তক্ষেপে এবং জিল্লুর রহমান জিল্লু, শাহ নেওয়াজ, গিয়াস আহমেদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি তাৎক্ষণিক ভাবে মিমাংসা হলেও, অনুষ্ঠানের শেষ দিন ৫ আগষ্ট পর্যন্ত বিভাজন এবং বিভক্তি স্পষ্ট ছিল বলে জানা যায়। এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘ফোবানা নিউইয়র্ক গ্রুপ’ এবং ‘ফোবানা নিউইর্য়ক বাহির গ্রুপ’ এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

এদিকে গত দুই দিন পার হলেও, নিউইয়র্কের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ফোবানায় উপস্থিত থাকলেও এতবড় একটি ঘটনা কেন মিডিয়ায় প্রকাশ হলো না, তা নিয়ে সোসাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকজন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফোবানার একজন কর্মকর্তা বলেন, “যেহেতু নিউইয়র্কের সাংবাদিকরা ফোবানার আর্থিক অনুদান নিয়ে ফোবানায় নিউজ করতে গিয়েছেন, তাই তারা এই ঘটনা প্রকাশ করবেন না। কারণ, নুন খেয়ে তো গুণ গাইতে হবে।”
উল্লেখ্য ৩, ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে শুক্র, শনি ও রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ডিসি সংলগ্ন ভার্জির্নিয়া স্টেটের আলিংটনে সিটির ‘হিলটন ক্রিস্টাল সিটি’তে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। চরম অব্যস্থাপনা,অনিয়ম, দূর্নীতি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যদিয়ে ফোবানার সম্মেলন শেষ হয়।


