সুকুমার সরকার, ঢাকা: আগামী বছর বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপিকেও হাসিনা সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। তারা তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে অনড়। কিন্তু তা আর হচ্ছে না। ব্রিটিশ অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের চার জন সংসদ সদস্য বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর তিনি এই ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘‘শেখ হাসিনার মতে, এ দেশের নির্বাচন কমিশন অনেকটাই স্বাধীন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা ওয়েস্টমিনস্টারের গণতন্ত্র অনুসরণ করি। নির্বাচন পর্যবেক্ষক এলে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।’ তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে অতীতে সামরিক শাসকদের কাছ থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে দেশের স্বাধীনতা নেতৃত্বদানকারী দর আওয়ামি লিগের।”
শেখ হাসিনা আরও জানান, ১৯৭৫ সালে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বেনিফিসিয়ারি সামরিক শাসকরা বন্দুক ব্যবহার করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করত এবং রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজনীতিতে পৃষ্ঠপোষকতা করত। প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের উদ্যোক্তাদের সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সেখানে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাব।” ব্রিটিশ এমপি-রা বাংলাদেশের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা এই উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন।
বুধবার পুলিশ সপ্তাহ ২০২৩ উপলক্ষে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘১৪ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে আমরা বিরাট পরিবর্তন এনেছি। সারা বিশ্ব আজকে এটা স্বীকার করে, করোনা মোকাবিলা ও যুদ্ধের সময় অর্থনৈতিক নীতিমালাটাকে শক্তভাবে ধরে রাখা; সেই সঙ্গে দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা, এটা দুঃসহ কাজ। আমরা সেটা সফলতার সঙ্গে করতে পেরেছি। এর পিছনে পুলিশ বাহিনীর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। সতর্ক থাকুন যাতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কেউ বাধা দিতে না পারে, কেউ আবার অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাস করার সাহস না পায় এবং কেউ আর যাতে কখনো কারো জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে।”


