সন্ধান২৪.কমঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সঙ্গে নিরাপত্তা আলোচনা ‘ব্যর্থ’ হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে রাশিয়া। এর ফলে গত ৩০ বছরের আগের তুলনায় এখন সর্বোচ্চ যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়লো ইউরোপ। রাশিয়া বলছে, মৌলিক বিষয়ে মতবিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ বৃহস্পতিবার বলেছেন, জেনেভা এবং ব্রাসেলসে দুই দফায় বৈঠকে সামান্য অগ্রগতি হয়েছে। কিন্ত মস্কো মজবুত ফলাফল চায়।
পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেবিংনিউ রাউ যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বিষয়ক সংস্থার (ওএসসিই) ৫৭ জন সদস্যদের উদ্দেশ্যে রাশিয়ার নাম উল্লেখ না করে বলেন, ইউক্রেন, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া এবং মলদোভার সঙ্গে সরাসরি বা শীতলভাবে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতে যুক্ত।
তিনি আরো বলেন, মনে হচ্ছে ওএসসিই এলাকায় গত ৩০ বছরের আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন যুদ্ধের ঝুঁকি অনেক বেশি। পোল্যান্ডের এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে আমরা পূর্ব ইউরোপে বড় সামরিক বৃদ্ধির সম্ভাবনার মুখোমুখি হয়েছি।
তিনি বলেন, আমাদের উচিত ইউক্রেন এবং এর আশেপাশে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করা।
এদিকে রাশিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সঙ্গে নিরাপত্তা আলোচনা ‘ব্যর্থ’ হয়েছে। তারা বলছে, মৌলিক বিষয়ে মতবিরোধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বিষয়ক সংস্থার (ওএসসিই) আলোচনা বৃহস্পতিবার ভিয়েনায় হয়েছে। যেখানে মূল বিষয় ছিল পশ্চিমাদের কাছ থেকে রাশিয়ার নিরাপত্তা দাবি এবং ইউক্রেনের কাছে রাশিয়ার সেনা মোতায়েন।
রাশিয়ার এই সেনা মোতায়েনের কারণে ইউক্রেণের রাজধানী কিয়ভ এবং তার মিত্রদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে এবং সেনাদের ফিরে নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়া আক্রমণ চালালে এতে পশ্চিমারা ভয়াবহ শাস্তি দিবে বলে জানায়।
তবে মস্কো জানিয়েছে ইউক্রেনে হামলার কোন পরিকল্পনা নেই তাদের। রুশ কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের ভূখণ্ডে তারা ইচ্ছেমতো সেনা মোতায়েন করতে পারেন। এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার জন্য ন্যাটোকে দায়ী করে।
পশ্চিমাদের কাছ থেকে রাশিয়ার নিরাপত্তা দাবির মধ্যে একটি হচ্ছে ন্যাটোতে কোনভাবেই ইউক্রেনকে সদস্য হিসেবে নেওয়া যাবে না।
এদিকে ওএসসিই’র বৈঠকে ৫৭ জন সদস্যকে উদ্দেশ্য করে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, গত ৩০ বছরের আগের তুলনায় এখন সর্বোচ্চ যুদ্ধের ঝুঁকিতে ইউরোপ।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেবিংনিউ রাউ বলেন, ইউক্রেন, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া এবং মলদোভার সঙ্গে সরাসরি বা শীতলভাবে রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতে যুক্ত।
এদিকে ওএসসিই-তে রাশিয়ার দূত বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজনে মস্কো পদক্ষেপ নেবে। আল জাজিরা।


