সন্ধাান২৪.কম : বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়ানো হেফাজতে ইসলামের নেতারা এখন তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন। অনেকেই মনে করছেন, হেফাজতে ইসলামের নেতারা তাদের অবস্থা বেগতিক দেখে সুর নরম করছেন এবং আপোষ রফা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কিছু সুযোগ-সুবিধা নেয়ার সুযোগ খুজছেন ।
এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভাস্কর্যবিরোধীদের রুখে দাঁড়ানোর এবং বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি দেওয়ায় হেফাজত আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে।
সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে ‘রানার মিডিয়া’র আয়োজনে বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল আলোচনায় একথা জানান এই সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক; যার বক্তব্যের মধ্য নিয়ে ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত।
খেলাফত মজলিসের নেতা মামুনুল বলেন, “প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলমান রয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি ব্যস্ত থাকায় আমাদের সময় দিতে পারেননি।

“প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তো আর হুট করে কথা বলা যায় না, প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা আছে। সরকারের পক্ষ থেকে যারা আমাদের সমন্বয় করেন, ড্রিল করেন, তারা আমাদের পরামর্শ দিচ্ছেন। আমরা আশা করি, আমরা সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত কথা বলতে পারব।”
মুজিববর্ষে ঢাকার ধোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের প্রকাশ্য বিরোধিতা মামুনুলই প্রথম করেন। তারপর হেফাজতের অন্য নেতারাও সরব হন।
মামুনুলসহ হেফাজত নেতাদের এই অবস্থানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা যেমন কড়া ভাষায় কথা বলছেন, বিপরীতে তাদের আলোচনার মাধ্যমে বোঝানোর কথা বলেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।
ভাস্কর্য টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে ফেলার যে হুমকি হেফাজত আমির বাবুনগরী দিয়েছেন, তাকে সমর্থন করে মামুনুল বলেন, “টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে ফেলা, এটা তো প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে শিক্ষা করা আমাদের ভাষা। একটা রাজনৈতিক ভাষা। তার কাছ থেকে শিখে হয়ত আমাদের দায়িত্বশীলরা একই ভাষা প্রয়োগ করছে।”
হেফাজতের বিরুদ্ধে মিছিল
বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে সরকারকে দোষারোপ করে বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে হেফাজত নেতা মামুনুল তারও জবাব দেন। “বর্তমান সময়ে আমার কি দায়িত্ব, সে দায়িত্ববোধ থেকে যখন আমি কথা বলি, তো সেই দায়িত্ববোধ থেকে আমাকে সরকারকে অ্যাড্রেস করতে হয়। সরকার আমার অভিভাবক, রাষ্ট্রের অভিভাবক, সুতরাং আমার যত কথা, যত দাবি, যত অনুভূতির কথা, আমি সরকারকে বলব না তো কাকে বলব? আমার ক্ষোভের কথা, প্রতিবাদের কথা, সব কথা আমি সরকারকেই বলব।”
অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের সমালোচনা করতে গিয়ে হেফাজত নেতা বিবর্তনবাদ পাঠ্যসূচি থেকে বাদ দিতে বলেন। “জাফর ইকবাল ডারউইনের মতবাদকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে চান। যারা এ মতবাদকে বিশ্বাস করবে, তারাই তো নাস্তিক।”
সাংবাদিক আ স ম মাসুমের সঞ্চালনায় এক আলোচনায় যুক্ত থাকা আইনজীবী নিঝুম মজুমদার তখন হেফাজত নেতাকে বলেন, ইসলামী শরীয়াহ আইন মোতাবেকও কাউকে নাস্তিক ঘোষণা করতে পারেন না হেফাজতের নেতারা।
তার এই প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি মামুনুল। পরে সঞ্চালক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ তুরস্কের আঙ্কারায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে কথা তুললে আলোচনা ছেড়ে যান খেলাফত মজলিসের এই নেতা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম


