সন্ধান২৪.কম : লুুটপাট ও দুর্নীতির সাথে ব্যাপক ভাবে জড়িয়ে পড়েছিলেন এমন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়ছেন আগের কমিটির ৭৩ জন নেতা। এতে আগের কমিটির অনেকে বাদ পড়ছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের নির্দেশে ক্যাসিনোকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদেরও কমিটিতে রাখা হয়নি।

জানা গেছে, ক্যাসিনোসহ অন্যান্য কালিমা মুছে মূল আদর্শে ফিরতে চায় যুবলীগ। আর সে উদ্দেশ্যেই পরিচ্ছন্ন ইমেজের দক্ষ ও অভিজ্ঞ তরুণেরা এবার কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতা হতে যাচ্ছেন। জেলা পর্যায়ের জনপ্রিয় কয়েক জনকেও নিয়ে আসা হচ্ছে কেন্দ্রে। নতুন মুখ হিসেবে দুই জন জনপ্রিয় সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হতে যাচ্ছেন। ২০টি পদ বাড়িয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির আকার হচ্ছে ১৭১ সদস্যের। জানা গেছে, দেশব্যাপী জনপ্রিয় বেশ কয়েক জনকে এবার দেখা যাবে। জেলা যুবলীগের সফল নেতারাও কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসছেন। ছাত্রলীগের সাবেক ত্যাগী নেতারাও যুবলীগের কমিটিতে স্থান পাচ্ছেন।তবে এবার নতুন নিয়মে সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ৫৫ বছরের বেশি বয়সিরা যুবলীগের নেতা হতে পারবেন না।
ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, বিভিন্ন হামলা-মামলা, টেন্ডারবাজি ও কমিটি বাণিজ্যের কারণে গত বছর বেশ আলোচনায় আসে যুবলীগ। ফলে ভেঙে দেওয়া হয় যুবলীগের কমিটি। যার হাত দিয়ে গড়ে উঠেছিল যুবলীগ, সংকটে পড়ে উদ্ধার পেতে সেই শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশকে কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনের চেয়ারম্যান করা হয়। একই সঙ্গে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান মাইনুল হোসেন খান নিখিল। সম্মেলনের পর ১১ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটির একটি তালিকা চূড়ান্ত করে যুবলীগের শীর্ষ দুই নেতা সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দিতে যান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিটির পরিধি বড় করা, বিতর্কিত কাউকে না রাখাসহ বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। যুবলীগের শীর্ষ দুই নেতা আজকালের মধ্যে তা চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর কাছে জমা দেবেন। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার চূড়ান্ত অনুমোদনের পর যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।
সূত্র জানায়, ২৬ থেকে বাড়িয়ে ২৮ সদস্যের এবার যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্যসংখ্যাকরা হচ্ছে। তার মধ্যে সাবেক কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্যদের মধ্য থেকে মাত্র চার থেকে পাঁচ জন, যুগ্ম-সম্পাদকদের মধ্য থেকে চার জন, সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্য থেকে দুই জন, সম্পাদকমণ্ডলী থেকে চার জন থাকছেন। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদ একটি বেড়ে পাঁচ থেকে ছয় জন হচ্ছে। ২০টি সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যপদ ছিল গত কমিটিতে। বর্তমানে এটি বেড়ে ২২টি হচ্ছে। পুরাতন থেকে চার জন, উপসম্পাদক থেকে আট জন, সহসম্পাদক থেকে চার জন, সদস্য থেকে দুই জন; বাকি মুখগুলো নতুন। সদস্যপদেও ব্যাপক পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। এবার অনেক সিনিয়ররা সদস্য হিসেবে থাকবেন।


