
সন্ধান২৪.কম : রবীন্দ্রনাথ তার সাহিত্য নিচু তলার মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কথা তুলে এনেছেন। তিনি শ্রেণী-জাত-ধর্মের দুরত্ব ভেঙ্গে দিয়ে,খেঁটে খাওয়া কৃষক-শ্রমিকে ছোঁয়ার চেষ্টা করছেন। তার লেখার মূল সুর ছিল মহা মিলনের। নিউইয়র্কে ‘গণমানুষের বরীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক এক আলোচনায় একমাত্র আলোচক হিসেবে একথা বলেন, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, ভাষা বিজ্ঞানী, প্রগতীশীল লেখক ড. পবিত্র সরকার।
গত ১২ মে সন্ধায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে ‘বাংলার গান গাই বাঙালীয়ানা’ ও ‘বাংল সংস্কৃতি কেন্দ্র’ যৌথ ভাবে এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আলোচনার সঞ্চালক ছিলেন বিশিষ্ট সংস্কৃতজন সাগর লোহানী।

রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে নিখুঁত ও বৈচিত্রপূর্ণ আলোচনা করতে গিয়ে অগ্রসর চিন্তার মানুষ পবিত্র সরকার বলেন, রবীন্দ্রনাথ বয়সে যত পরিনত হয়েছেন, তত বেশী করে অজ¯্র সাধারণ মানুষের গল্প লিখেছেন, প্রবন্ধে কৃষি ও কৃষকের কথা বলেছেন। জাত-ধর্মের প্রান্তিক মানুষের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করেছেন।
পবিত্র সরকার বলেন,বঙ্গভঙ্গ’র সময় একমাত্র বরীন্দ্রনাথ-ই বলতে পেরেছিলেন,‘বঙ্গভঙ্গ রদ করতে হলে সকল মানুষের অংশগ্রহণ চাই। এমন আন্দোলন চাই যেখানে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষই অন্তর থেকে অংশ নিতে পারে।’ রবীন্দ্রনাথ তাই স্পষ্টত ভেবেছেন বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের এই হিন্দু প্রতীকগুলো মুসলমানদের কাছে টানার বদলে আরও দূরে সরাবে। ’
রবীন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গে শ্রেণী ও সাম্প্রদায়িকতা দেখতে পেয়েছিলেন। তাই সে সময় তিন গণমানুষের পক্ষে থেকে সোচ্চার হয়েছিলেন-বলেন পবিত্র সরকার।
রবীন্দ্রনাথকে একজন সংস্কারমুক্ত,বিজ্ঞানমস্ক ও বাস্তববাদী মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করে পবিত্র সরকার তার আলোচনায় বলেন, রবীন্দ্রনাথের মূল সুর ছিল মহা মানবের মিলন। ভারতের গণ মানুষের সাথে বিশ্বের মিলন। প্রজা-জমিদারের বিভেদ ভেঙ্গে সমতার মিলন।
আলোচনায় পবিত্র সরকার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,বৃটিশ শাসনের রবীন্দ্রনাথের সাহসী ভ‚মিকা,ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের কথা বলেন।
গল্পে,কবিতায়,গানে,প্রবন্ধে এবং চিঠিতে বরীন্দ্র্রনাথ গণমানুষের কথা বলেছেন,শ্রেণী চেতানার কথা বলেছেন বলে পবিত্র সরকার তার আলোচনায় তুলে এনেছেন।
শেষে ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ পর্বে অংশ গ্রহন করেন প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমদ,সংস্কৃতজন সউদ চৌধুরী,প্রাবন্ধিক-গল্পকার কুলদা রায়,লেখক সুব্রত বিশ্বাস,বাচিক শিল্পী গোপন সাহা,সাংবাদিক সনজীবন কুমার,সাংস্কৃতিক কর্মী ক্লারা রোজারিও, লেখক ওয়াবদুল্লাহ মামুন প্রমূখ।
আলোচনায় শিল্পী-সাহিত্যি-সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


