জঙ্গিরা সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে জঙ্গি হামলার ব্যাপক পরিকল্পনা করেছিল ।খুব শিগিগরই তারা এ হামলা চালাতে চেয়েছিল। এ জন্য তারা ব্যাপক প্রস্তুতিও নিচ্ছিল। হামলার জন্য জঙ্গিদের প্রশিক্ষিত বিশেষ অপারেশনাল টিমও নির্ধারণ হয়েছিল।
এর আগে গত ২৬ জুলাই এই টিম ঢাকায় গুলিস্তানে এক সার্জেন্টের মোটরসাইকেলের ঝুড়িতে গ্রেনেডসদৃশ বোমা রেখেছিল। এর পর ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) সংগ্রহ করে তদন্তে নামে। তদন্তে দেখতে পায় যে চার-পাঁচ জন সদস্য সার্জেন্টের মোটরসাইকেলে কীভাবে বোমা রাখতে হয়, সেটা রেকি করছে। এর পরই পুলিশ সারাদেশে জঙ্গি হামলার ব্যাপারে সতর্কতা জারি করে। তদন্ত করে সিলেটে জঙ্গিদের এই টিমের অবস্থান শনাক্ত করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।
সিটিটিসির একটি সূত্র জানায়, গত সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত সিটিটিসি এবং পুলিশ সদরদপ্তরের ‘ল ফুল ইন্টারসেপশন সেলে’র (এলআইসি) একটি দল সিলেটের নগরীর মিরাবাজারের উদ্দিপনের ৫১ নম্বর বাসা থেকে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে এক জন হলেন, নব্য জেএমবির সিলেট আঞ্চলিক কমান্ডার ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তার নাম নাইমুজ্জামান। তাকে গ্রেফতারের পর শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে আরো চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে সাদি নামে অপর একজন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আর সায়েম লেখাপড়া করেন সিলেট সরকারি মদনমোহন চাঁদ কলেজে। অন্য দুই জনের পরিচয় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত জানাতে পারেনি সিটিটিসি।
উপকমিশনার আরো জানান, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের আদালতে তোলা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। পল্টন হামলাসহ আরো কোনো হামলায় তাদের সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।


