প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র : আমি স্বচক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের দেয়ালে ঘাতকের বুলেটের চিহ্ন দেখেছি । তাই আজকের এই রক্তদান কর্মসূচীতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি । জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীতে নিউইয়র্কের স্টেট সিনেটর জন ল্যু বছর দুয়েক আগে ঢাকা সফরের কথা স্মরণ করে এ কথা বলেন।

২০ অগাস্ট শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নিউইয়র্কের কুইন্স মলে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ও নিউইয়র্ক ব্লাড সেন্টার যৌথভাবে আয়োজিত রক্তদান অনুষ্ঠান উদ্বোধন করতে গিয়ে জন লু ঘাতকদের শাস্তির দাবী জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তিদাতাই শুধু নন, বিশ্বের নিপিড়িত-বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে নিবেদিত একজন রাজনীতিক ছিলেন ।
কনসাল জেনারেলকে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সিনেটর ল্যু বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর পাশাপাশি এই মহান নেতার শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে এই রক্তদান কর্মসূচির তাৎপর্য অপরিসীম। বিশেষ করে করোনা মহামারিতে এই নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশিরাও যেমন ভিকটিম হয়েছেন, একইভাবে বাংলাদেশও এখন জর্জরিত। তাই মানবতার সামগ্রিক কল্যাণে এই রক্তদানের আয়োজনটি আমাকেও অভিভূত করেছে। এরপরই সিনেটর জন ল্যু ‘জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে বঙ্গবন্ধুকে সম্মান জানিয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।

সিনেটর (ডেমক্র্যাট) জন ল্যু-কে পাশে নিয়ে কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা রক্তদান কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। সংক্ষিপ্ত এ অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা, তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্য ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করে তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ডেপুটি কন্সাল জেনারেল এস এম নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে।
কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। মানবতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই তাঁর শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে নিউইয়র্কে করোনাজনিত কারণে রক্তের চরম সংকটকালে এই কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানও এমন আয়োজনের জন্যে কন্সাল জেনারেলকে ধন্যবাদ জানান।
স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীতে সিনেটর জন ল্যু, কনস্যুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ অনেক বিদেশী অংশগ্রহণ করেন এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্বন্ধে জানেন। কনস্যুলেট কর্তৃক প্রত্যেক রক্তদাতাকে রক্তদানের জন্য প্রশংসাপত্র প্রদান করা হয়। কুইন্স মলে নিউইয়র্কের স্টেট সিনেটর জন ল্যু সহ অর্ধ শতাধিক আমেরিকান রক্ত দান করেন।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর কারণে নিউইয়র্ক ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় রক্তের বর্তমানে বিপুল সংকট রয়েছে। রক্তের এই সংকট নিরসনে কনস্যুলেট নিউইয়কর্ ব্লাড সেন্টারের সহযোগিতায় এই তাৎপর্যপূর্ণ আগস্ট মাসে রক্তদান কর্মসূচীর উদ্যোগ নেয়।


