ডা. মোহাম্মদ শাহীন
সন্ধান২৪.কম: আপনি সুগার টেস্ট করেছেন শেষ কবে ? কখনও এইচবিএ১সি পরীক্ষা হয়েছে? কত স্কোর এসেছিল ? জেনে রাখুন, গ্লাইকেডেট হিমোগ্লোবিনের অঙ্ক অনুযায়ী, কলকাতা শহরের প্রায় অর্ধেক (৪৭%) মানুষের রক্তেই চিনির পরিমাণ বেশি। অর্থাৎ ডায়াবেটিক। এই তালিকায় ৩১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী মানুষ রয়েছেন ৩৪%। ডায়াবেটিসের দোরগোডায়, অর্থাৎ প্রি-ডায়াবেটিক ৩৭%।
যে তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। সুরাহা কী? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যুবপ্রজন্মকে ডায়াবেটিস থেকে দূরে রাখতে সচেতনতা অভিযানে গতি আনতে হবে। বদল আনতে হবে জীবনশৈলীতে।

ডায়াবেটিসের নিক্তিতে পুরুষরা কিন্তু অনেকটাই এগিয়ে। ৫১ শতাংশ পুরুষ, ৪২ শতাংশ মহিলা। প্রি-ডায়াবেটিসের দাঁড়িপাল্লায় অবশ্য মহিলারা সামান্য এগিয়ে – ৩৬ শতাংশ। পুরুষ ৩৫ শতাংশ। সমীক্ষায় আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের মধ্যে শুধু নন-ডায়াবেটিক অংশই (৫৮ শতাংশ) ডায়াবেটিক (১৩ শতাংশ) ও প্রি-ডায়াবেটিকের (২৯শতাংশ) তুলনায় বেশি। বাকি ক্ষেত্রে (৩১–৪৫, ৪৬–৬০, ৬১– ৮৫) কিন্তু উলটপুরাণ। অর্থাৎ ডায়াবেটিক ও প্রি–ডায়াবেটিক অংশই সিংহভাগ। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ৬১ থেকে ৮৫ বছর বয়সিদের। এক্ষেত্রে মাত্র ৮ শতাংশ নন–ডায়াবেটিক। ৫৬ শতাংশ ডায়াবেটিক। বাকিরা প্রি-ডায়াবেটিক।
যদিও এই সমীক্ষা রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ। তারা জানিয়েছেন, ডায়াবেটিক রোগীরাই সাধারণত এইবিএ১সি টেস্ট করায়। এখন অবশ্য কিছু কর্পোরেট সংস্থা নিজেদের কর্মীদের এই পরীক্ষা করাচ্ছেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ চট করে যেচে এই দামি পরীক্ষা করায় না। তাই এই তথ্য দেখে, এই সিদ্ধান্ত আসা ঠিক হবে না। অতি সরলীকরণ হয়ে যাবে। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ কমিটি এইচবিএ১সি পরীক্ষাকে ডায়াবেটিস নির্ধারণের টেস্ট হিসাবে মান্যতা দেয়। তাদের মত, এইচবিএ১সি লেবেল ৬.৫ শতাংশের বেশি হলেই রোগীকে ‘ডায়াবেটিক’ হিসেবে গণ্য করা হবে। ৬.৫ শতাংশের কম হলে প্রি-ডায়াবেটিক। তবে ৫.৭ শতাংশের কম হলে রক্তের চিনির মাত্রা স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হবে। আপনার স্কোর কত?


