সনজীবন কুমার–———
কাজী আজিজুল হক খোকনকে অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা দিয়ে শেষ বিদায় জানালো অসংখ্য মানুষ। ৯ অক্টোবর দুপুরে তার নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় নিউইয়র্ক জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায়।
দীর্ঘ ৩০ বছর পর আজ রাত ১১টায় এমিরেটস বিমানে তার নিথর দেহ যাচ্ছে প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে।

জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি,সামাজিক-সাংস্কৃতিক-আঞ্চলিক সংগঠনের শত শত মানুষ উপস্থিত শেষবারের মত দেখে নেয় যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের কাজী আজিজুল হক খোকনকে। এ সময় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেকের চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। জানাজার আগে খোকনের আত্মার শান্তি কামনা করে সংক্ষিপ্ত কথা ড. সিদ্দিকুর রহমান,হোসেন রানা ও জুয়েল আহমেদ।
এর আগের দিন বৃহস্পতীবার খোকনের বিষয়ে কী করা দরকার, তা নিয়ে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠান হয়।
একটি সুত্র থেকে জানা যায়,গত শনিবারেই নিউইয়র্কের একটি বাসষ্ট্যান্ডে তার আকস্মিক মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার ৫ দিন আগে তার নিখোঁজ সংবাদে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা নিউইয়র্ক । বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, দলের নেতা-কর্মী সবাই সোশাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তার সন্ধান চায়।
তাকে খুজেঁ বের করার চেষ্টা চালানো হয়, শেষরক্ষা হয়নি । সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মৃত্যুর হীম ঘরে ঠাঁই হয়েছিল তার।বুধবার রাতে চরম দুঃসংবাদ পেল গোটা কমিউনিটি । তাঁর এই আচমকা চলে যাওয়ায় শোকস্তব্ধ হয়ে পরে আপামর প্রবাসীরা। অবশেষে হারিয়ে যাওয়ার ৫ দিন পর তার জানাজার মধ্য দিয়ে শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের এক লড়ুাকু ইতিহাসের অধ্যায়।
অজাতশত্রু খোকন খুব সাধারণ ভাবে জীবনযাপন করতেন।কিন্ত সেই জীবন চলার পথে কিছু নীতিও মেনে চলেন। বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ,শেখ হাসিনা ও দীপুমনি ছিল তার সম্পদ-আদর্শ,চলার পথের আলোর দিশারী।
খোকন যেমন ছিলেন তার রাজনৈতিক দলের প্রতি একজন বিশ্বাসী সৈনিক তেমনি সবার হৃদয়ে ছিলেন একজন ভালো মানুষের প্রতীক। যার জন্য কোন দল,ধর্ম,বর্ণ,বিভেদ তাকে স্পর্শ করতে পারে নাই। একেবারে সাদামাটা জীবনযাপন এবং মাটির কাছাকাছি থাকা এই মানুষটির সব দলের রাজনৈতিক অঙ্গনেও যেমন অবাধ বিচরণ ছিল,তেমনি ছিল মানুষকে কাছে টানার এক যাদুকরী কৌশল।
রাজনীতির ‘পলিটিক্স’ যখন তার কাছে ঘোর অমাবশ্যার মত লাগতো তখন মাঝে মাঝে মন্তব্য করতেন “বর্তমানে দুনিয়া কৃত্রিমতায় ভরে গিয়েছে। আসল-নকলের পার্থক্য খুব সহজে বোঝা যায় না।”
কিছু দিন পর হয়তো অনেকেই কাজী আজিজুল হক খোকনকে ভুলে যাবে। কিন্ত নিউইয়র্কে এমন দুই/চারজন আছেন তাদের কাছ থেকে খোকনকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।
গত শনিবার খোকন রহস্যজনক নিখোঁজে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে কমিউনিটি ! সন্ধান পেতে চলছে তৎপরতা, অবশেষে গত বুধবার তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
তার জানাজার আগের দিন বৃহস্পতীবার খোকনের মরদেহ নিয়ে কী করা দরকার, তা নিয়ে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠান হয়। সেখানে ১০ ডলারের একটি তহবিল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়,যা তার পরিবারকে প্রদান করা হবে।
তার দেশের বাড়ি যশোর জেলার আলোক দিয়ায়। বর্তমানে তার তিন ভাই ও দুই বোন বাংলাদেশে আছেন।