সন্ধান২৪.কম ডেস্ক : বাংলাদেশে গতকাল রবিবার বাংলাদেশ সরকারের আইনমন্ত্রী মহম্মদ আসাদুজ্জামান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা তাঁদের কাছে আর কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, বরং আদালতের রায়ে দণ্ডিত এক অপরাধী। দুই দেশের মধ্যে থাকা প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় হাসিনাকে দ্রুত ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আর্জি জানানো হয়েছে এবং সরকার কোনও আবেগের বশে না গিয়ে সম্পূর্ণ আইনি পথেই তাঁকে ফেরত আনতে চায়।
নানা বির্তক ও জল্পনা-কল্পনার পর ভারতে আশ্রিত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠল বিএনপি সরকার।
২০২৪ সালের অগস্টে গণঅভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করে।
সম্প্রতি ঢাকায় এক কর্মশালার উদ্বোধনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতের রায়ের পর হাসিনাকে একজন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী হিসেবেই দেখছে প্রশাসন এবং সেই আইনি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই দিল্লির কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে। ভারত সরকারের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, অনুরোধ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সম্পূর্ণভাবে ভারতের ওপর। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক আগেই জানিয়েছিল যে তারা প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া মেনে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ঢাকার পক্ষ থেকে হাসিনাকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো হচ্ছে। এর আগে আগস্ট মাসে দিল্লি থেকে এক ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করলে ঢাকা তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছিল, যদিও ভারত সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছিল ওই আয়োজনের সঙ্গে প্রশাসনের কোনও যোগ ছিল না। আজকাল ওয়েবডেস্ক
