আমলানির্ভর অগণতান্ত্রিক বাজেট প্রত্যাখ্যান বাম জোটের

সন্ধান ২৪.কম ডেস্ক ঃ আমলানির্ভর অগণতান্ত্রিক বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। গত ১৮ জুন সকালে অনলাইনে এক বৈঠকে জোটের সদস্য দলের নেতারা বাজেটটি প্রত্যাখ্যান করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন বাম জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের শীর্ষ নেতা ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা আলমগীর হোসেন দুলাল, কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পদক মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক।তথ্যসুত্র ঃ সাপ্তাহিক একতা ।

সংবাদ সম্মেলনে আরো ছিলেন বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবি’র সাজ্জাদ জহির চন্দন, আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, বাসদ (মার্কসবাদী)’র মানস নন্দী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আকবর খান, গণসংহতি আন্দোলনের মনিরুদ্দিন পাপ্পু। বাম জোটের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতের প্রতি সরকারের উপেক্ষা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম বরাদ্দ, যা বরাদ্দ করা হয় তার বিরাট অংশ দুর্নীতির অজগর কর্তৃক গিলে খাওয়া, অপ্রয়োজনীয় ও অপচয়মূলক ব্যয় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভঙ্গুর, দুর্দশাগ্রস্থ করে ফেলেছে এবং জনগণের নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে নিম্নমানের চিকিৎসা এবং ব্যয়বহুল পর্দা, বালিশ, বই এবং যন্ত্রপাতি কেনার রেকর্ড বাংলাদেশের। পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং আমাদের প্রতিবাদকে সরকার রাজনৈতিক প্রচার প্রোপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দিয়েছে বারবার। স্বাস্থ্যখাতে অভাবনীয় উন্নতির কথা প্রচার করেছে সরকার। চীনের উহান থেকে করোনা সংক্রমণের সংবাদ পাবার তিন মাস পর বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ ২০২০। তখন থেকেই সরকার দলের নেতারা বলে আসছেন আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের চাইতে তো ভালো বটেই এমন কি অনেকেই আমাদের কাছে সাহায্য চাইছেন। কিন্তু ৮ মার্চের পর তিন মাসে প্রমাণিত হল এসব বাগাড়ম্বর ছাড়া আর কিছুই নয়। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতাল রয়েছে ৬৫৪টি এবং এসব হাসপাতালে মোট শয্যার সংখ্যা ৫১,৩১৬টি। আর বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে ৫,০৫৫টি, যেখানে মোট শয্যার সংখ্যা ৯০,৫৮৭টি। বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে অনুমিত জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৬ লাখ। সেই হিসাবে প্রতি ১,১৫৯ জন ব্যক্তির জন্য হাসপাতালে একটি মাত্র শয্যা রয়েছে। এই তথ্য প্রমাণ করে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা কোথায় আছি। নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনা মহামারী আমাদের উদ্বেগ, আশঙ্কাকে যেমন সত্য প্রমাণ করেছে তেমনি সরকারের প্রচারণার ফানুসকেও ফুটো করে দিয়েছে। করোনা এবং নন করোনা রোগীদের ন্যুনতম চিকিৎসা না পাওয়া, ডাক্তার, নার্স, চিকিৎসা কর্মীদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ না করা, নিম্ন মানের সামগ্রীর কারণে সাড়ে তিন হাজারের বেশি চিকিৎসা কর্মী করোনা আক্রান্ত হওয়া, কয়েক ডজন ডাক্তার-নার্সের মৃত্যু, রোগী ও চিকিৎসা কর্মীদের সম্পর্কের অবনতি এক আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। হাসপাতালে হাসপাতালে ছুটতে ছুটতে পথে মৃত্যুবরণ করার দুঃখজনক ঘটনা যেমন দেখছি আমরা তেমনি বাণিজ্যিক হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা বাণিজ্যের নির্মমতা প্রত্যক্ষ করছেন দেশবাসী। সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে সরকারের আত্মতুষ্টির ঢেঁকুর ইতিমধ্যেই মিলিয়ে গিয়েছে দেশের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তির ন্যুনতম চিকিৎসা না পাওয়ার বেদনাময় ঘটনা দেখে। সংবাদ সম্মেলন থেকে দ্রুত ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়। এগুলো হচ্ছে- জনগণের সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার অধিকার নিশ্চিত এবং বাজেটে কমপক্ষে ২০% স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ, সময়মতো অর্থছাড় ও বাস্তবায়ন। প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় করোনাভাইরাস পরীক্ষার ল্যাব স্থাপন করে উপজেলায় ২০০, জেলায় ৫০০ এবং সারাদেশে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ হাজার শনাক্তকরণ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা। স্বাস্থ্য সামগ্রী, সুরক্ষা উপকরণ কেনা ও সরবরাহের সাথে সড়িত দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নয় এমন রোগীদের যেন হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে না দেয়, তার ব্যবস্থা করা। কোন বেসরকারি হাসপাতাল রোগী ফিরিয়ে দিলে তাদের শাস্তি দিতে হবে এবং সেসব হাসপাতাল রাষ্ট্রকর্তৃক অধিগ্রহণ করতে হবে। সকল নাগরিকের করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ টেস্ট এবং চিকিৎসা রাষ্ট্রীয় খরচে করা। করোনাকালে সকল বাণিজ্যিক বেসরকারি হাসপাতাল অধিগ্রহণ করে করোনা চিকিৎসায় ব্যবহার করা। চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা সেবা কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সংবাদ কর্মীসহ সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। করোনাকালে দায়িত্ব পালনকারীদের ঝুঁকিভাতা, বীমা ও সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা করা। করোনাকালে কোন কারখানার শ্রমিক ছাঁটাই করা চলবে না, কোথাও শ্রমিক ছাঁটাই হলে ঐ কারখানা রাষ্ট্রীয়ভাবে অধিগ্রহণ করতে হবে। ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বাসন করতে হবে। করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন-রোজগারহীনদের খাদ্য ও নগদ অর্থসহায়তা দিতে হবে। এবং বাজেটে কৃষি, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়াও এবং সামরিক, জনপ্রশাসনসহ অনুৎপাদনশীলখাতে বরাদ্দ কমাতে হবে। সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের উদ্যোগে ২১ জুন সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়।

Exit mobile version