সন্ধান২৪.কমঃ কিছুদিন থেকেই রাশিয়ার আগ্রাসনের আশঙ্কা করছেন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। ঠিক এরই মধ্যে আরও একবার ইউক্রেন ইস্যুতে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও কথার ঝড় বয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে। পরস্পরের মধ্যে চলতে থাকা এই হট্টগোলে কার্যত সভা স্থবির হয়ে পড়ে।
এই অচলাবস্থার ফলে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর জি-২০ অর্থমন্ত্রীদের সম্মেলনের মতো দিল্লির এ সম্মেলনেও কোনো যৌথ বিবৃতি আসছে না বলে জানিয়েছে আয়োজক দেশ ভারত।
জি-২০ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার রাজধানী দিল্লিতে বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর এ সম্মেলন শুরু হয়েছে। জানা যায়, আলোচনা চলার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একে অপরকে নানা বিষয়ে কটাক্ষ করে কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, ইউরোপে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সেনা মোতায়েনের ঘটনা ঘটিয়েছে রাশিয়া।
রাশিয়ার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অযথা অস্থিরতা ছড়াচ্ছে ও রাশিয়ার বিষয়গুলোতে হস্তক্ষেপ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন অভিযোগ করেন, ইউক্রেনে বিনা উস্কানিতে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং অন্যায় যুদ্ধের কারণে আলোচনা পন্ড হয়েছে। তিনি বৈঠকে যতদিন প্রয়োজন ততদিন ইউক্রেনের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি নিউ স্টার্ট চুক্তিতে ফিরে আসার জন্য রাশিয়াকে আহ্বানও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই লাভরভ পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেইল এবং হুমকি’ সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন,পশ্চিমা দেশগুলো নিরপেক্ষ দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, যাতে তারা ইউক্রেনে যুদ্ধের নিন্দা জানায়। পশ্চিমারা সবকিছুতে এবং প্রত্যেককেই চাপ দেয়ার চেষ্টা করছে। লাভরভ বলেন, পশ্চিমা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আচার-আচরণ ভাল না। তারা কূটনীতি নিয়ে আর ভাবছে না। তারা কেবল এখন ব্ল্যাকমেইল করছে, আর সবাইকে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই একে অপরকে আক্রমন করে শুরু হয় তুমুল হট্টগোল। এ সময় উভয়কে এই বির্তক থেকে সরে আসতে বললেও কোন লাভ হয় না। এভাবে দীর্ঘক্ষণ পর বির্তক থেমে যায়।
জি-২০ এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অধিকাংশ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একমত হলেও কিছু বিষয়, যেমন ইউক্রেন সংঘাত, যা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মীমাংসা করা যায়নি। ফলে যৌথ বিবৃতি গ্রহণ করা সম্ভবপর হয়নি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, সম্মেলনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে সবগুলো দেশ একমত পোষণ করলেও রাশিয়া তাতে দ্বিমত পোষণ করে এবং চীন রাশিয়াকে সমর্থন জানায়, এতে করে যৌথ বিবৃতি গ্রহণ করা যায়নি।
ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়
