সন্ধান২৪.কম : ভারত চারদিক থেকে চাপে রাখতে চাচ্ছে চীনকে । পণ্য ও পরিষেবা নিষিদ্ধ। করা হয়েছে বরাত বাতিল। আর সব শেষে আমদানিতে কড়াকড়ি। আপাতত এই ‘আর্থিক ত্রিশূলে’ বিঁধেই বেজিংকে সর্তক বার্তা দিতে চাইছে দিল্লি। এভাবেই বেজিংয়ের দিকে বাতিলের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া জারি রেখেছে মোদী সরকার।
টিকটক-সহ ৫৯টি চিনা মোবাইল অ্যাপ বাতিলের ঘোষণা ঘিরে তরজার পারদ চড়ছে ইতিমধ্যেই। বুধবার তা আরও উস্কে দিয়ে বিজেপি নেতা অমিত মালব্যর টুইট, “চিনা সোশ্যাল মিডিয়া উইবো ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বার্তা স্পষ্ট, লাল দাগ (ধৈর্যের সীমা) পেরোলে, তার ফলও ভুগতে হবে। সীমান্তে যা শুরু হয়েছিল, তা ইতিমধ্যেই বহু দিকে ডালপালা ছড়িয়েছে। এবং হয়তো এটা নেহাতই শুরু…”

এতটা চোখা ‘যুদ্ধং দেহি’ মেজাজ না-দেখালেও, বেজিংয়ের দিকে বাতিলের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া জারি রেখেছে মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী জানিয়েছেন, ভারতের কোনও সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে দরপত্রই দিতে পারবে না চিনা সংস্থা। এমনকি এ দেশের কোনও সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেও নয়। নতুন প্রকল্পে শামিল হতে দেওয়ার তো প্রশ্নই নেই, প্রয়োজনে খতিয়ে দেখা হবে পুরনো বরাতও। নতুন করে দরপত্র চাওয়া হতে পারে সে ক্ষেত্রে। মন্ত্রীর দাবি, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বদলানো হচ্ছে ওই সমস্ত টেন্ডারে যোগ দেওয়ার আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত শর্ত। যাতে নিজের জোরেই সেই বরাত হাসিল করতে পারে বিভিন্ন ভারতীয় সংস্থা। গডকড়ী জানিয়েছেন, ছোট ও মাঝারি শিল্পেও চিনা সংস্থাগুলিকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ আবার ডাক দিয়েছেন উদ্ভাবনী কাজের অ্যাপ (মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন) তৈরির। চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করার পরে যা তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর দাবি, বিদেশি অ্যাপের উপরে নির্ভরতা বন্ধ হওয়া জরুরি। বরং ওই সমস্ত অ্যাপ সরে যাওয়ার সুযোগে ফাঁকা হওয়া বাজার ধরতে এ দেশের স্টার্ট-আপগুলিকে এগিয়ে আসতে বলেছেন তিনি। দাবি করেছেন, এই খালি বাজার বিপুল সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে তাদের জন্য।
রেল মন্ত্রক জানিয়েছে, একটি চিনা সংস্থা বাড়তি সুবিধা পাওয়ার কারণে থার্মাল ক্যামেরা কেনার টেন্ডার বাতিল করেছে তারা। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবর অনুযায়ী, টেলিকম দফতর কোনও চিনা সংস্থাকে বরাত না-দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে ৪জি-পরিকাঠামো গড়ার উপকরণ কেনার টেন্ডার বাতিলের পথে হাঁটছে বিএসএনএল-ও।