সন্ধান২৪.কম : সোমবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত পশ্চীমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের একটি বিজ্ঞাপনে দশভুজা দেবীকে ১১ হাতের দেখানো হয়েছে।যা নিয়ে বিতর্কের ঝড় দেখা দেয় সমাজমাধ্যমে।
এ ছাড়া পুজোয় আমিষ খাওয়ার জন্য বাঙালিকে ‘ভণ্ড’ বলে আক্রমণ করেছেন বাগেশ্বর বাবা ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী । আমিষকে ‘নোংরা খাবার’ বলে আমিষপ্রিয় বাঙালিকে হিন্দুধর্ম থেকে বহিষ্কারের নিদান দিয়েছেন এই বাগেশ্বর বাবা! কোটি কোটি বাঙালির অনুভূতিতে আঘাত দেয়া স্বঘোষিত ধর্মগুরুর ও ভন্ড বাগেশ্বরেরা ফতোয়ার বিরুদ্ধে গোটা পশ্চীমবঙ্গের বাঙালি ফুঁসে উঠেছে।

পশ্চীমবঙ্গবাসীর মতে, শত শত বছর আগে থেকে এই বাংলার দুর্গাপুজোয় আমিষ রান্না করা , মাছ,পাঁঠা, কবুতর,মহিষ,লাউ বলি দেয়ার প্রচলন আছে। অন্য প্রদেশ থেকে এসে সেই বাঙালিকে ধর্ম ও পূজা শেখানোর ফতোয়া দেয়ার কোন অধিকার নেই।
মাছে-ভাতে বাঙালিকে খাবার নিদান দেয়ায় বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
একজন বলেছেন, আমিষকে ‘নোংরা খাবার’ বলে আমিষপ্রিয় বাঙালিকে হিন্দুধর্ম থেকে বহিষ্কারের নিদান মধ্য প্রদেশ থেকে আসা এই বাগেশ্বর বাবার ! পুজোয় কালীঘাট-তারাপীঠের আমিষ-ভোগের বাংলায় স্বঘোষিত ধর্মগুরুর নিদান ঘিরে নিন্দার ঝড় তুলে প্রশ্ন করা হচ্ছে “বাঙালি মাছ-মাংস খাবে না? বিবেকানন্দ বলে গেছেন, পুজোয় মা কালি পাঠা খাবে। সেই বিবেকানন্দর ওপরে কি বাগেশ্বর বাবা ?”
Swarnendu Chattopadhyay মন্তব্য করেছেন- সপ্তমীতে পাঁঠা বলিদান করা হয়। অষ্টমীতে হয় না। তবে সন্ধিপুজোর সময় পাঁঠা বলিদান করা হয় এবং নবমীতেও পাঁঠা বলিদানের রীতি রয়েছে। বলিদানের পর এই পাঁঠার মাংস প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করা হয়। যারা মানুষ তারা অযথা ভয় পাবেন না।
Aitish Paul বলেছেন, আমাদের এখানে নবরাত্রি উদযাপ হয় না । আমাদের এখানে যে নবপত্রিকা এর পূজা হয় সেটা আর ভু ভারতে কোথাও হয় না । নবরাত্রি ও শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পূর্ণ ভিন্ন উপাসনা এক এর হলেও উপাসনা পদ্ধতি আলাদা । আমাদের কলকাতায় বিভিন্ন বাড়িতে বিভিন্ন রীতি মেনে পুজা হয় , কোনো বাড়িতে জোড়া ইলিশ, কোথাও পুটি মাছ কোথাও পাঠা বলি অনেক কিছু ই দেওয়া হয় এই মহা পূজায় । গ্রাম বাংলায় মহিষ বলি ও দেখতে পাওয়া যায়। আর সবটাই হয় রীতি মেনে ।
Kinkarchandra Bera বলেছেন– কেন ভাই,জাননাষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নিরামিষ খাবার খেতে হয়। এবং মা ও খান। নবমীতে ছাগ বলী হয়। আমরা মায়ের ভক্তরা অনেকেই আনন্দে মাংস ভাত খাই। মাকেও উৎসর্গ করা হয়।
আর একজন মন্তব্য করেছেন,”দুর্গাপুজোয় বন্ধ করা হোক আমিষ খাবার, বন্ধ থাক মাংসের দোকানও”। পুজোয় আমিষ খাওয়ার জন্য বাঙালিকে ‘ভণ্ড’ বলে আক্রমণ বাগেশ্বর বাবার আমিষকে ‘নোংরা খাবার’ বলে আমিষপ্রিয় বাঙালিকে হিন্দুধর্ম থেকে বহিষ্কারের নিদান কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য নয়। এই অমার্জনীয় অপরাধের জন্য তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।
অপর একজন বলেন, পুজোয় কালীঘাট-তারাপীঠের আমিষ-ভোগের বাংলায় স্বঘোষিত ধর্মগুরুর নিদানের জন্য তাকে আইনের আওতায় আনা হোক।
“বাঙালি মাছ-মাংস খাবে না? বিবেকানন্দ পুজোয় মাছ-মাংসের কথা বলে গেছেন, তাঁর ওপরে কে আছে?” নিন্দার মুখে উল্টোসুর রাজ্য বিজেপি সভাপতি সৌমিক ভট্টাচার্যের।
বাবা তোমাকে হিন্দু বাঙালি পছন্দ করে, শ্রদ্ধা করে। কিন্তু একটা কথা তোমাকে আরও গভীর ভাবে ভাবতে হবে যে ভারতবর্ষ আজকের দেশ নয়। ভারতের হিন্দু মাত্রই নিরামিষাশী নয়। আর এটাই সত্য । তোমার কথার অনেক গুরুত্ব আছে। তাই কিছু বলবার আগে একটু ভেবে বলো। আর অনুরোধ ফতোয়া জারির মতো কোনো বক্তব্য রেখো না- বললেন একজন বাঙালি।
মানিক সরকার বলেছেন, ‘কে এই বাগেশ্বরী বাবা আমি তো বিবেকানন্দকে জানি। আমি তো রামকৃষ্ণ দেব কে জানি, আমি তো শ্রীচৈতন্যদেবকে জানি এবং এনাদের বিচারধারা মাথায় নিয়ে চলার চেষ্টা করি। ইনি কি উনাদের থেকেও উপরে এইটা আমার সমস্ত বাঙালির কাছে আগে প্রশ্ন রইল।’
এদিকে গত সোমবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের একটি বিজ্ঞাপনে দশভুজা দেবীকে ১১ হাতের দেখানো হয়েছে যা নিয়ে বিতর্কের ঝড় দেখা দেয় সমাজমাধ্যমে। সরব হয় রাজনৈতিক দলগুলোও। এদিন পুজো কমিটির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের প্রচারের জন্যই তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফ থেকে বিতর্কিত বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়। সেই বিজ্ঞাপনেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, দশটি হাতের বদলে দেবীর রয়েছে ১১টি হাত এবং সেই অতিরিক্ত হাতে শোভা পাচ্ছে একটি অতিরিক্ত অস্ত্রও। সাধারণত হিন্দু পুরাণ বা শাস্ত্রের কোথাও দেবীর এই রূপের বর্ণনা নেই। ফলে ধর্মীয় ভাবাবেগ ও পুরাণকে বিকৃত করার অভিযোগে সরব হয়েছে সব বিরোধী শিবির।
সরকারি বিজ্ঞাপনে মা দুর্গার ছবি বিকৃতি নিয়ে ক্ষমা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari apology)। এদিন পুজো কমিটিগুলোকে নিয়ে বৈঠকের শুরুতেই তিনি নিজের বক্তব্যে এই ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন।
বিজেপির শীর্ষ নেতা শমীক ভট্টাচার্য স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কিছুটা রসিকতা করেই বলেন, ‘মা দুর্গা এখন আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে গিয়েছেন।” পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে জানান, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এখনও বিজ্ঞাপনটা দেখিনি। তবে কোনও নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন সংস্থা যদি গ্রাফিক্সে কোনো ভুল করে থাকে, তবে সেটাকে রাজনীতির বিষয় বানানো অনুচিত। এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি এবং দ্রুত তা সংশোধন করে নেওয়া হবে।”
এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে একজন বলেন, থিম হবে না, বিকৃত হবে না.. গাদাখানেক হুমকি ও আচরণবিধি তো দেখলাম। কিন্তু সরকারি বিজ্ঞাপনে মায়ের 11টি হাত হল কী করে? দশভুজা 2026 -এ একাদশভূজা হয়ে গেলেন কোন শাস্ত্র অনুসারে?
Mousumi Sarkar মন্তব্য করেন, মা দূর্গার দশটি হাত থেকে এগারোটি হাত বানিয়ে এই হাতে পদ্মফুল ধরিয়ে দিল। এই দিন আমাদের দেখতে হচ্ছে।
বাঙালিদের দুর্গা পূজা শেখাতে আসলে , এই হাত দিয়ে থাপড়া দেবে মা দুগ্গা। ডবল ইঞ্জিনের ডবল পদ্ম ফুল দিতে হবে ,তাই হাত একটা বাড়াতেই হবে৷ তাতে ১১,১২,১৩, যাই হোক ক্ষতি কি? বলেছেন একজন নেটিজন।
এদিক মধ্য প্রদেশের স্বঘোষিত ধর্মগুরু বাগেশ্বর বাবা ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক অভিযোগে জানা যায়, তিনি জোর করে অন্যের সম্পত্তি দখল করে বাড়ি ও মন্দির নির্মাণ করেছেন। ধর্মীয় ক্ষমতা ব্যবহার করেও নাকি ধীরেন্দ্রকৃষ্ণমোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।