নিউইর্য়ক : নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় মসজিদে বিস্ফোরনে নিহত মুসল্লীদের পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে সাদাকাহ ফাউন্ডেশন ইউএসএ। ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে নারায়নগঞ্জ তল্লা বড় জামে মসজিদ মাঠে বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সাদাকাহ ফাউন্ডেশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও ইসলামি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা সাদিকুর রহমান আযহারী। এসময়ে তল্লা বড় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ওমর ফারুক ও মাদ্রাসায় নুরে মাদিনা কেরাতুল কোরআন’র মুহতামিম মাওলানা শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময়ে সাদিকুর রহমান আযহারী বলেন, ঘটনার পরপরই সাদাকাহ ফাউন্ডেশন ইউএসএ’র সদর দপ্তর আমেরিকার নিউইয়র্ক থেকে সংস্থার প্রধান নির্বাহীর পরামর্শে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে সাদাকাহ’র বাংলাদেশ প্রতিনিধিরা। একই সাথে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে জানাযা, দাফনসহ প্রাথমিক সহযোগিতার জন্য তাৎক্ষনিক কাজ শুরু করে মার্কিন সাহায্য সংস্থা সাদাকাহ ফাউন্ডেশন।

এরপর থেকে প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত খোজ খবর রাখার পাশাপাশি নিহতদের রেখে যাওয়া সন্তানদের পড়াশুনার খোজ খবরও নিচ্ছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
দুর্দশাগ্রস্থ এ পরিবারগুলোর পাশে কাজ করে করে যাওয়ার অংশ হিসেবেই আবারো আজ সোমবার সকালে খুব সমস্যাগ্রস্থ ১৫ টি পরিবারের মাঝে এক মাসের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এরমধ্যে ছিল একবস্তা চাল, একবস্তা আলু, ডাল, তেল, নুডুলস, বিস্কিট ও মুড়ি’র প্যাকেট। যা একেকটি পরিবারের একমাসের জন্য পর্যাপ্ত বলে জানিয়েছে খাদ্য সহায়তা নিতে আসা ব্যক্তিরা।
বিতরণের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে, তল্লা বড় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা ওমর ফারুক বলেন, সূদুর আমেরিকার সাহায্য সংস্থাটি বাংলাদেশের নারায়নগঞ্জের নিহত মুসল্লিদের পরিবারের জন্য যে ভাবে ভাবছে সেটা সত্যিই আমাদের জন্য অনেক শিক্ষনীয়। সাদাকাহ ফাউন্ডেশনের এধরনের কার্যক্রম দেখে সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি ও অন্যান্য সংস্থা এগিয়ে এলে নিহত মুসল্লীদের পরিবারগুলো বাঁচার একটি অবলম্বন পাবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বাংলাদেশের নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময়ে বিস্ফোরণে প্রায় ৪০ জন মুসল্লী দগ্ধ হন, এর মধ্যে ৩৪ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। যার মধ্যে মসজিদের ইমাম আবদুল মালেকসহ (৬০) ও মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৮) ও মারা যান।