সন্ধান প্রতিবেদন : জাতীয় সংসদের ৫টি শুণ্য আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে গুজব ও উত্তেজনা এখন নিউইর্য়কসহ গোটা আমেরিকায় আওয়ামী পরিবারের কাছে প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে । প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল উপ-নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছেন । গত দুইদিন থেকে নিউইর্য়কে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী এমন গুজব ছড়িয়ে দিয়েছেন। শুধু নিউইর্য়কেই না, পুরো যুক্তরাষ্ট্রসহ বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতারাও পুতুল সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র কিনেছেন- এমন খবর গণমাধ্যমে প্রচার করেছেন।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নির্বাচনে যাচ্ছেন,এজন্য অনেকেই তাকে অভিনন্দন এবং স্বাগত জানিয়েছে। অনেকেই আবার আরও একধাপ এগিয়ে তাকে, তার মা শেখ হাসিনার মত প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দেখার আশা ব্যক্ত করেছেন। আওয়ামী লীগ করেন না, কিন্ত আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্খি,এমন কয়েকজনও সোসাল মিডিয়ায় এ ধরণের গুজব রটিয়েছেন।
আবার যদি সত্যি সত্যি পুতুল যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তবে, সংবাদটা গণমাধ্যমে সবার আগে পৌঁছে দেয়ার কৃতিত্ব নিতেই অনেকেই এই সংবাদ বাজারে প্রচার করেছেন। আবার বেশী ভাগ মানুষই এই গুজবকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছেন।
আওয়ামী লীগের অনেক সদস্য এই গুজবকে সত্য মনে করে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে গিয়েছেন। কারণ তারা এখন ‘জয়’ না ‘পুতুল’ কাকে তারা তাদের পছন্দের নেতা হিসেবে নিবেন, তা নিয়ে ধন্দে পড়েছেন।
পুতুল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন,এ ধরণের গুজব ছড়ানো মোটেই ঠিক হয় নাই। এতে দলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। যে বা যারা এই রকম গুজব রটাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত- নিউইর্য়কের একজন আওয়ামী লীগ নেতা এমন মন্তব্য করলেন।
নিউইর্য়কের প্রথম সারির আর একজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, পুতুলকে নিয়ে এ রকম প্রপাগান্ডার ডালপালা মেলে দেয়ার অর্থ হলো কৌশলে দেশের মানুষকে বিভেদ ও বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেয়া। কারণ এই মূহূর্তে পুতুলকে ও জয়কে পরস্পরের মুখোমুখি করে দেয়া। তিনি আরও বলেন,জয় না পুতুল নেতা-কর্মী ও মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য তার একটি সুক্ষè রেখা টানার জন্য এই ধরণের গুজন বাজারে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একজন গুরত্বপূর্ণ নেতা বলেছেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল নির্বাচনে অংশ গ্রহন করছে না। এমন কি উপনির্বাচনের জন্য তিনি বা তার পক্ষ থেকে কেউ মনোনয়ন পত্র কেনেন নাই।
আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সুত্র বলেছে- এই উপনির্বাচনে বঙ্গব›ধু শেখ মুজিবরের বা শেখ হাসিনার পরিবার থেকে কেউই নির্বাচনে যাবেন না। এদিকে শেখ হাসিনা বা শেখ রেহানার পরিবারের কোন একজন নির্বাচনে অংশ নেবে, সে রকম কোন ইঙ্গিত শেখ হাসিনা বা শেখ রেহানাও দেন নাই। সজিব ওয়াজেদ জয় দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছেন। এ ছাড়াও তিনি প্রধানম›ত্রীর আইটি বিষয়ক উপদেষ্ঠ। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় রংপুর আসন থেকে তার জন্য মনোনয়ন কেনা হয়। তাকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য অনুরোধও করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত জয় সে অনুরোধে সাড়া দেন নাই।
আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল একজন প্রতিবন্ধি বিশেষজ্ঞ হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। বেশ কিছু বছর ধরে জাতিসংঘের সাথে অটিজম নিয়ে দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অটিজম বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি সরাসরি রাজনীতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করবেন,এমন কথাও তিনি এখন পর্যন্ত বলেন নাই। কাজেই এই মুর্হূতে জয় বা পুতুল রাজনীতিতে আসছেন, এমনটি মনে হচ্ছে না । এবং এ ধরণের গুজব ছড়ানো যে,দলের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হবে,তা অনেকেই মনে করছেন।