সন্ধান২৪.কম: গত ২৪ সেপ্টেম্বর রবিবার শিল্পাঙ্গন আয়োজন করে ষষ্ঠবারের মত দিনব্যাপী নাট্যমেলা। এবারের নাট্যমেলার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “বাংলা নাট্যমঞ্চে বিদেশি নাটক”। নাট্যমেলার শুভ উদ্বোধন করেন নাট্যজন আবুল হায়াত।
৬ আগষ্ট শিল্পাঙ্গন আয়োজিত নির্দ্ধারিত বিষয়ের ওপর নাট্যসেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম । নাট্যব্যক্তিত্ব ড. বাবুল বিশ্বাস পঠিত প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন।
লং আইল্যান্ডের হিক্সভিল শহরের লেভিটটাউন হলে বিকেলে নাট্যমেলার সূচনা হয়। শিল্পাঙ্গনের পরিবেশনায় নাট্যকোলাজ “সোনার বাংলা” দিয়ে নাট্যমেলার মঞ্চ উন্মোচিত হয়। সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাটক “পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়” এবং “নূরলদীনের সারাজীবন”-এর ওপর ভিত্তি করে “সোনার বাংলা” নাট্যপরিবেশনার শেষ হয় মঞ্চে বিশাল আকৃতির পতাকা নির্মাণ এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে।

মেলায় উপস্থিত ছিলেন মজিব বিন হক, লুতফুন নাহার লতা, খাইরুল ইসলাম পাখি এবং বন্যা মির্জা।
নাট্যমেলার ‘কহে নাট্যজন’ পর্বে সাংবাদিক কৌশিক আহমেদ বাংলা নাটকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপচারিতা করেন নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা আবুল হায়াতের সঙ্গে ।
নাট্যমেলায় যোগ দেয় আমন্ত্রিত নাট্যদল কৃষ্টি এবং বাংলাদেশ থিয়েটার অফ আমেরিকা (বিটিএ)। নাট্যদল কৃষ্টি পরিবেশন করে বাচিকাভিনয় “রাজা ঈদিপাস”। গ্রীক নাট্যকার সফোক্লিসের ট্র্যাজেডি নাটক “অয়দিপস”-এর অনুবাদ করেন খোন্দকার আশরাফ হোসেন। এরপর আন্তন চেখভের নাটক “তামাকু সেবনের অপকারিতা” পরিবেশন করেন নাট্যদল বিটিএ। মূল নাটক থেকে রূপান্তর করেন অজিতেশ বন্দোপাধ্যায়। নাটকটির নির্দেশনা ও অভিনয়ে ছিলেন ফারুক আজম।
নাট্যপরিবেশনায় অংশ নেন সীতেশ ধর, মিতালী দাশ, জিয়া উদ্দিন শিপন, শেখ তানভীর আহমেদ এবং স্বাধীন মজুমদার। নাট্যপরিবেশনার পরিকল্পনা ও আয়োজনে ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও নির্দেশক বন্যা মির্জা।
নাট্যমেলায় শিল্পাঙ্গনের তিনটি নাট্যপরিবেশনা ছিল। সূচনা নাট্যকোলাজের পর দ্বিতীয় পরিবেশনা ছিল মঞ্চসফল নাটক “দেওয়ান গাজীর কিসসা”-এর অংশবিশেষ। জার্মান নাট্যকার বার্টল্ট ব্রেশট-এর “পুন্টিলা এন্ড হিজ ম্যান মাটি” নাটকের বাংলায় রূপান্তর করেন নাট্যজন আসাদুজ্জামান নূর। অংশ নেন লিটন ফিলিপ্স, সুলতানা খানম, আহসান উল্লাহ, মৃদুল হাসান এবং মো. নজরুল ইসলাম। শিল্পাঙ্গনের সর্বশেষ পরিবেশনা ছিল তাদের ২৮তম নাট্যপ্রযোজনা “জমা খরচ ইজা”। ব্রিটিশ নাট্যকার লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ইলিয়ট ক্রশে-উইলিয়ামস রচিত “ই এন্ড ও ই” নাটকের রূপান্তর করেছিলেন বরেণ্য নাট্যকার মুনীর চৌধুরী। শিল্পাঙ্গনের নাটকের নবনাট্যায়ন ও নির্দেশনায় ছিলেন মো. নজরুল ইসলাম। অভিনয় করেন সুলতানা খানম, শাহরুখ তাসনিম, সোনিয়া কবির পান্না, শফিউল আলম, আহসান উল্লাহ, তানভীর শেখ এবং মো. নজরুল ইসলাম। শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন মাহনাজ হাসান।
প্রতিকূল আবহাওয়া সত্তে¡ও প্রচুর নাট্যজন, নাট্যকর্মী ও নাট্যমোদী দর্শকের সমাগম ঘটে।