সন্ধান২৪.কমঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে করা বিক্ষোভ মিছিল থেকে হাটহাজারী থানায় হামলা করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলৈই নিহত হন যে পাঁচজন তাদের পরিচয় মিলেছে । এদের মধ্যে তিনজন হাটহাজারীর আল জামাতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং ২জন পথচারী। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।
যে পাঁচজন নিহত হলেন তারা হলো, হাটহাজারীর আল জামাতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার মাস্টার্সের (দাওরায়ে হাদিস) শিক্ষার্থী কাজী মিরাজুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম ও জামিল এবং পথচারী মো. মিজান। নিহত মিজান স্থানীয় একটি দর্জি দোকানে কাজ করতেন। এ ছাড়া চারজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বঘোষণা ছাড়া দুপুরে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে মিছিলটি হাটহাজারী থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নেতাকর্মীরা থানায় হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে হেফাজতের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে অবস্থান নেয়। এ ঘটনায় খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো হাটহাজারী উপজেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হেফাজতের নেতাকর্মীরা হাটহাজারীর আল জামাতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার সামনের সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। হেফাজতকর্মী ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় চলতে থাকে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এ ঘটনা চলাকালে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
