পাকিস্তানে ‘মাইনাস ইমরান’ সূত্র জোড়দার হচ্ছে

সন্ধান২৪.কম : নির্বাচনে জিতলেও ‍ ইমরান খান সেনাবাহিনীর ‘আশীর্বাদ’ নিয়েই পাকিস্তানের ক্ষমতায় আসেন । তবে সম্প্রতি নানা ব্যর্থতা কারণে ইমরানের সাথে দূরত্ব বেড়েছে সেনাবাহিনীর সঙ্গেও। সেনাবাহিনী এখন আর ব্যর্থ ইমরান সরকারের সঙ্গে নিজেদের নাম দেখতে চায় না—এমন আলোচনা সম্প্রতি পাকিস্তানের গণমাধ্যমপাড়ায় ঘুরছে। 

করাচিতে স্টক এক্সচেঞ্জে বন্দুকধারীরা হামলা করে ২৯ জুন। এদিন বন্দুকধারী ও পুলিশের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ যায় চার হামলাকারীসহ ১৩ জনের। এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া যেন তৈরি করাই ছিল। ভারতকে দোষারোপ করার সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি।  সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানি নেতারা এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে আসছেন। তাঁরা এই কৌশলগুলো ব্যবহার করে সমস্যা থেকে সাধারণের দৃষ্টি সরিয়ে নেন। ইমরান খানও ভিন্ন নন। 

ইমরান খানের ক্ষমতায় আসার পর রাজনীতি ও অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে কৌশলগুলো ‘আলাদা’ বলে জানিয়েছেন বিশ্বের অনেক সমালোচকই। যা হোক তাঁরাই এখন ইমরান খানের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। ন্যাবকে (ন্যাশনাল অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি ব্যুরো) (ভুল) ব্যবহার করেও তিনি দুর্নীতিবাজদের বিচারের মুখোমুখি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমানে তাঁকে ঘিরেই বসে রয়েছেন দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদরা। তাঁদের অনেকেই তাঁর মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বও পালন করছেন।

ইমরান খানের মধ্যে পূর্বসূরিদের আচরণই লক্ষ করেছেন তাঁর বহু স্পষ্টবাদী সমর্থক। তাঁদেরই একজন হলেন এরশাদ ভাট্টি। উর্দু ভাষার গণমাধ্যমে কয়েক দিন আগে তিনি একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন, ইমরান খান সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। হাসান নিসার নামের এক সমালোচকও ইমারন খানকে একসময় ব্যাপক সমর্থন দিতেন; কিন্তু বর্তমানে তিনিও মুখ ঘুরিয়ে নিলেন।

দেশটির বিরোধী দলগুলো ইমরান খানের অপসারণের দাবি জানাচ্ছে। ওসামা বিন লাদেনকে শহীদ আখ্যা দিয়েও তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। তারা বর্তমান সরকারের বাজেটকে দরিদ্রবিরোধী, জনবিরোধী বলে সমালোচনা করছে। তাদের এই সমালোচনায় সমর্থন দিচ্ছে দেশটির হাজারো সাধারণ জনগণ। সূত্র : ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ।

Exit mobile version