পাল্টাপাল্টি মহড়ায় চীন-যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা

দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের মহড়া

 সন্ধান২৪.কম :  দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের পাঁচ দিনব্যাপী সামরিক মহড়ার মধ্যেই ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরী পাল্টা মহড়া চালিয়েছে।পারস্পরিক দ্বন্দ্বের মধ্যেই এই মহড়া দুই দেশ ও বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলে আর্ন্তজাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

দক্ষিণ চীন সাগরে আমেরিকার রণতরী

শনিবার মার্কিন নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, মুক্ত ও স্বাধীন ইন্দো-প্যাসিফিকের সমর্থনে তাদের ‘ইউএসএস নিমিটজ’ ও ‘ইউএসএস রোনাল্ড রিগান’ দক্ষিণ চীন সাগরে মহড়া ও অভিযান চালিয়েছে। বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য চুক্তি এবং হংকং নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যেই বিতর্কিত জলসীমায় ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের পাল্টাপাল্টি এই মহড়া দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মত বিশ্লেষকদের। সংবাদসূত্র : রয়টার্স,

 দক্ষিণ চীন সাগরের প্যারাসেল দ্বীপের কাছে বুধবার থেকে চীনের মহড়া শুরু হয়েছে। দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চীন ও ভিয়েতনামের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের।  এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরীগুলো শনিবার দক্ষিণ চীন সাগরের ঠিক কোন অংশে মহড়া চালিয়েছে, সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মার্কিন নৌবাহিনীর বিবৃতিতেও মহড়ার স্থান উলেস্নখ করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজগুলো সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম অংশেই মহড়া চালায়। সম্প্রতি ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি বিমানবাহী রণতরীকে একসঙ্গেও দেখা গেছে। চীন তাদের মহড়ার বিষয়টি আগেই জানিয়েছিল; অন্যদিকে মার্কিন নৌবাহিনী শনিবার হঠাৎই দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের দুটি রণতরীর মহড়ার খবর দেয়। 

এদিকে, চীনের মহড়ার সমালোচনা এসেছে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের তরফ থেকে। এ ধরনের মহড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে বলে সতর্কও করেছে তারা। এর আগে শুক্রবার দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ অংশে চীনের বিদ্যমান সামরিক মহড়াকে উসকানিমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই সাগরের বিরোধপূর্ণ অংশে চীনা মালিকানার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। শুক্রবার টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এতে সাগরটিতে ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের দাবির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

দক্ষিণ চীন সাগরে চীন যে সামরিক মহড়া চালিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার সমালোচনা করার পর সেই সমালোচনাকে একেবারেই পাত্তা দেয়নি বেইজিং। চীন বলছে, দেশের সার্বভৌম সীমানার মধ্যেই তারা সামরিক মহড়া চালিয়েছে।  তবে আরও কয়েকটি দেশও ওই অঞ্চলের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে। দেশগুলো হচ্ছে মালয়েশিয়া, ব্রম্ননাই, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ওই অঞ্চলের দাবি না করলেও আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ হিসেবে ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখতে চায় তারা।

Exit mobile version