সন্ধান২৪.কম : প্রবাসীর স্ত্রী (২৩) কে ধর্ষণের অভিযোগে যুবলীগ নেতা মজিবুর রহমান শরিফকে (৩০) ইয়াছিন হাজীর বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে।
২১ অক্টোবর ভোরে শরিফ নোয়াখলা গ্রামের প্রবাসী নুর আলমের স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ২ শিশু সন্তানের সামনে ধর্ষণ করেছে। সে নোয়াখলা গ্রামের ওয়াছির বাড়ীর রফিক উল্যার ছেলে এবং উপজেলার ৮নং পশ্চিম নোয়াখলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, বুধবার ভোর ৫টার সময় সন্ত্রাসী শরিফ একই বাড়ীর প্রবাসী নুর আলমের ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে পড়ে। ঘরের ভিতরে প্রবাসীর স্ত্রীর শয়ন কক্ষে গিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে তাকে বিবস্ত্র করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষিতার ২ শিশু সন্তান জেগে থাকলেও তাদের সামনেই তাদের মাকে ধর্ষণ করে। এ সময় শরিফ বাহিনীর কয়েকজন সশস্ত্র ক্যাডার ঘরের চারপাশে পাহারা দিতে থাকে। তাদের ভয়ে বাড়ির লোকজন কেউ এগিয়ে আসেনি।
থানায় ধর্ষিতা সাংবাদিকদের জানান, তার ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে তার ২ শিশু সন্তানের সামনে তাকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণ করে শরিফ পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হলে পুলিশ দুপুরেই তাকে গ্রেফতার করে।
চাটখিল থানার ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া জানান, ধর্ষিতার অভিযোগের ভিত্তিতে শরিফকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। থানা অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, শরিফের সহযোগীদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
মজিবুর রহমান শরিফের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অনেক মামলা রয়েছে । শরিফের বিরুদ্ধে থানায় ও কোর্টে ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, টেন্ডারবাজি সহ অনেক মামলা থাকলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাকে এতদিন গ্রেফতার করেনি। ইতোপূর্বে তার বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষণের অভিযোগ হলে পৌরসভার মেয়র, উপজেলা যুবলীগ একাংশের আহবায়ক মোহাম্মদ উল্যা পাটোয়ারী তার পক্ষ নিয়ে চাটখিলে মানববন্ধন করে এর প্রতিবাদ জানায়। নোয়াখলা ইউনিয়ন সহ চাটখিল দক্ষিণ অ লের শরিফ ও তার বাহিনীর সদস্যদের কাছে জিম্মি হয়ে আছে এলাকাবাসী। এ বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।