সন্ধান২৪.কম: বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের রাখার জন্য পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকারের নবান্ন ‘হোল্ডিং সেন্টার’ (আটক শিবির) তৈরির নির্দেশ জারি করেছে । এর পরই বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের আটক শিবিরের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে !
কোথাও জায়গা দেখার কাজ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃতদের রাখার জন্য নবান্ন ‘হোল্ডিং সেন্টার’ (আটক শিবির) তৈরির নির্দেশ জারির এক দিন পরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ছবিটা এমনই।
সোমবার দুপুরে সাংসদ সুকান্ত মজুমদার তাঁর বাসভবনে বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করার পরে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী (শুভেন্দু অধিকারী) সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত যাঁরা, তাদের আটক শিবিরে রাখা হবে। বিএসএফের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশ ফেরত পাঠানো হবে। এখন থেকে কোনও বাংলাদেশি গ্রেফতার হলে তাঁকে এই আটক শিবিরের মাধ্যমেই তুলে দেওয়া হবে বিএসএফের হাতে।’’
নবান্নের নির্দেশ অনুসারে, সন্দেহভাজনদের আটক করে এ সব কেন্দ্রে ৩০ দিন রাখা যাবে। যাঁরা এর আগে ধরা পড়েছিলেন এবং বন্দি ছিলেন, যাঁদের দেশের বাইরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে, তাঁদেরও সেখানে রাখা যাবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
দক্ষিণবঙ্গ
নবান্নের এই নির্দেশ জারির পরের দিন, সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক শিবিরের জন্য জায়গা দেখার কাজ শুরু হয়েছে। মেদিনীপুর এবং খড়্গপুর শহরে দু’টি জায়গা আপাতত দেখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হুগলিতে এখনও এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে খবর। বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা এসে গিয়েছে। আটক শিবির তৈরির প্রক্রিয়া প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
উত্তরবঙ্গ
দার্জিলিঙের জেলাশাসককে আনন্দবাজার ডট কমের তরফে ফোন করা হলে তিনি জানান, এখনও আটক শিবির নিয়ে কোনও নির্দেশিকা আসেনি। প্রসঙ্গত, দার্জিলিঙের অধীনে রয়েছে ফাঁসিদেওয়া। সেখানে মুড়িখাওয়া এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কোনও কাঁটাতার নেই। ওই অংশ দিয়ে মহানন্দা নদী বয়ে গিয়েছে। সেখান দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগও উঠেছে। তাই ফাঁসিদেওয়া বিশেষ নজরে বলে খবর। জলপাইগুড়ি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক শিবির নিয়ে নতুন কোনও নির্দেশিকা আসেনি। তবে জলপাইগুড়ি সদরের সাউথ বেরুবাড়িতে বহু দিন ধরে একটি আটক শিবির রয়েছে। ছিটমহলেও অনেক দিন ধরেই রয়েছে কেন্দ্র।
মালদহে আটক শিবির চালু হবে বলে খবর। ইংরেজবাজার শহরের চন্দনপার্কে জেলার একমাত্র আটক শিবির করার ভাবনা রয়েছে প্রশাসনের। সেখানে ইতিমধ্যে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ১২ জন পুলিশ, তিন জন সিভিল ডিফেন্স, তিন জন সিভিক পুলিশ এবং রাঁধুনি নিযুক্ত করা হবে বলে খবর। দক্ষিণ দিনাজপুর প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক শিবির তৈরি করার নির্দেশ এসেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রশাসনিক স্তরে কোনও কাজ শুরু হয়নি।
অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর নির্দেশিকা আগেই জারি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সম্প্রতি নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, পূর্বতন সরকার কেন্দ্রের সেই নির্দেশ পালন করেনি। তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে ওই সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা হয়েছে। সিএএ বা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অন্তর্ভুক্ত নন যাঁরা, এ বার তাঁদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। সরাসরি তুলে দেওয়া হবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে। বিএসএফ তাঁদের সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ করবে। শুভেন্দুর ঘোষণার পর রাজ্য সরকারের তরফেও নির্দেশিকা জারি করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গুয়াহাটি থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে মাটিয়া ট্রানজ়িট শিবির নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। সেখানে যে ভাবে আটকদের রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা সন্দেহে ধৃত, অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য অসমেই প্রথম শিবির গড়ে উঠেছিল। এ বার তা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গেও। আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
