বাংলাদেশের প্রধান ইস্যু হচ্ছে ১১ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবর্তন করা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন

সন্ধান২৪.কমঃ বাংলাদেশের প্রধান ইস্যু হচ্ছে ১১ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবর্তন করা, ১৩ জুন রবিবার বিকেলে নিউইয়র্কে জেএফকে এয়ারপোর্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন। 

 বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যু ও এলডিসি ৫ম অধিবেশনে  জাতিসংঘে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। 

বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা অবস্থার আলোকে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে একটি আলোচনা হবে। সেখানে আমরা বাংলাদেশের অবস্থান উপস্থাপন করবো। আমাদের অবস্থান হচ্ছে, যতশীঘ্রই এই ১১ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবর্তন। এটি হচ্ছে আমাদের নাম্বার ওয়ান ইস্যু।’ 

ড. মোমেন বলেন , ”বার্মায় সামরিক বাহিনী ক্ষমতায় থাকার কারণে বিশ্বের অনেকে দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে উদ্বিগ্ন । তবে আমরা সরব থাকবো, যুক্তির অবতারণা করবো, গণতন্ত্র হোক আর যাই হোক, আমাদের  প্র্রধান ইস্যু হচ্ছে এই যে, ১১ লাখ রোহিঙ্গা বড় কষ্টে আছে, তাদের ছেলে-মেয়েদের বিশেষ কোন ভবিষ্যত নাই। অন্তত: এদের কারণেই যেন সকলকে ফেরৎ নেয়া হয়-এ ব্যাপারে  বিশ্ব ফোরামে জোরালো ভূমিকা রাখবো।”

এছাড়াও জাতিসংঘে আরেকটি বড় আলোচনার বিষয় হচ্ছে এলডিসির সামিট।  সামনের বছর ২৩-২৭ জানুয়ারিতে কাতারের দোহায় ফিফ্থ কনফারেন্সের প্রস্তুতি মিটিং হচ্ছে ১৮ জুন। সেখানে আমরা কী কী অর্জন করতে চাই তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা  হবে। বাংলাদেশের জন্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এজন্যে যে, ২০২৪ সালে আমরা এলডিসি থেকে বের হয়ে যাবো। ইতিমধ্যেই সিপিবি রিকমেন্ট করেছে যে, আমরা এলডিসি থেকে যত বেনিফিট পেতাম তা ২০২৬ সাল নাগাদ অব্যাহত থাকবে। তবে আমরা দাবি উঠাবো যে, করোনার কারণে শুধু ২০২৬ সাল নয়, আরো অধিক সময় যেন সে সব সুবিধা বহাল রাখা হয়। এটি কতটা ফলপ্রসূ হবে জানি না, তবে আমরা জোরালোভাবে যুক্তিসমূহ তোলে ধরবো।

করোনার টিকা নিয়ে কূটনীতিতে বাংলাদেশ কী সফল হতে পারছে না-এমন প্রশ্নে পরিপ্রেক্ষিতে ড. মোমেন বলেন, ‘করোনার শুরুতে বিশ্বে ভয়ংকর একটি পরিস্থিতি দেখা দিলেও, বাংলাদেশ খুব দক্ষতার সাথে তা নিয়ন্ত্রণ করেছে। এখন দ্বিতীয় ধাক্কা এসেছে। আমরা টিকার জন্যে যাদের সাথে চুক্তি করেছিলাম, কিন্তু তারা (ভারত) খুবই সমস্যায় পড়েছে। নিজের দেশে সমস্যা প্রবল হওয়ায় চুক্তি অনুযায়ী টিকা দিতে পারছে না।  তাছাড়া, কোভেক্স থেকে আমরা যে টিকা পাবার কথা, সেটিও দিতে পাচ্ছে না।  আশা করছি শিগগিরই কিছু কিছু পাবো। সম্প্রতি আমরা চীন এবং রাশিয়ার সাথে টিকা পাওয়ার ব্যাপারে মোটামুটি চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছি। এটি বাস্তবায়িত হলে আমাদের সমস্যা আর থাকবে না। 

গত ২০ জুন ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগের আগে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বাইডেন প্রশাসনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এমন রাজনীতিক-পেশাজীবী- সমাজ সংগঠকদের সাথেও করোনার টিকা ইস্যুতে কথা বলবেন ড. মোমেন। 

এদিকে, জেএফকে এয়ারপোর্টে কাতার এয়ারলাইন্সে অবতরণের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা। নেতৃবৃন্দের মধ্যে  ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সামাদ আজাদ ,ড. মাসুদুল হাসান,  ,আব্দুল হাছিব মামুন, দুলাল মিয়া এনাম ,শাহানারা রহমান প্রমূখ।

 

 

Exit mobile version