ভারতে নারীরা পেলেন গর্ভপাতের অধিকার, আমেরিকার মেয়েদের লড়াই আর কত দিন?

গর্ভপাতের ক্ষেত্রে বিবাহিত এবং অবিবাহিত মহিলাদের মধ্যে ফারাক করা ‘অসাংবিধানিক’ বলেও উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। —প্রতীকী ছবি

সন্ধান২৪.কমঃ গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠতম উদাহরণ হিসেবে আমেরিকার নাম উচ্চারণ করা হয ? কিন্তু সে দেশের নাগরিকরা কতটুকু স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে ? মেয়েরা এখনও লড়ছেন গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ভারতীয় মেয়েদের অন্তত সেই লড়াইটা শেষ হল!

মেয়েদের শরীরের উপর নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার কোনও অধিকার রাষ্ট্রের কি রয়েছে ? এই প্রশ্ন নিয়ে নারী আন্দোলনকারীরা বহু যুগ ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। বিচ্ছিন্ন ভাবে তাঁরা কখনও জিতছেন, কখনও হারছেন। বৃহস্পতিবার তেমনই এক লড়াই জিতলেন ভারতের মেয়েরা। দেশের শীর্ষ আদালত বলেছে, দেশের সব নারীই নিরাপদে গর্ভপাত করাতে পারবেন। গর্ভপাতের ক্ষেত্রে বিবাহিত এবং অবিবাহিত মহিলাদের মধ্যে ফারাক করা ‘অসাংবিধানিক’ বলেও উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

তবে গর্ভপাতের অধিকার আমেরিকার সব ‘স্টেট’-এ এক রকম নয়। এ বিষয়ে বিভক্ত আছে। কোথাও গর্ভপাত নিষিদ্ধ, কোথাও নিয়ম খানিকটা শিথিল, কোথাও আবার সম্পূর্ণ ভাবে আইনসিদ্ধ। তা নিয়ে আমেরিকার মাটিতে এবং বিশ্বজুড়েই চলছে দীর্ঘ লড়াই। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও বদল আসেনি সেখানকার আইনে। যে যে ‘স্টেট’-এ গর্ভপাত নিষিদ্ধ ছিল, তা এখনও রয়ে গিয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় যদি কোনও মেয়ের প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি হয়, তা হলেও আমেরিকার কিছু জায়গায় গর্ভপাত করানোর কোনও উপায় নেই। সেখানে দ্বন্দ্বটা মূলত ‘প্রো লাইফ’ আর ‘প্রো চয়েস’-এর মধ্যে। কিন্তু গর্ভপাতের মতো জটিল সিদ্ধান্ত কি শুধু মাত্র এই দুই মেরুর মধ্যে আবদ্ধ?

গর্ভপাত করানোর পরিস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে। ধর্ষণ (নাবালিকা এবং প্রাপ্তবয়স্ক দুই ক্ষেত্রেই), বৈবাহিক ধর্ষণ (প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট এই নিয়েও বিবেচনা করেছে), শারীরিক জটিলতা, মা এবং ভ্রূণ দু’জনের প্রাণহানির আশঙ্কা— অনেক ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

Exit mobile version