মধ্যরাতে এমপিসহ সাত নেতার বাড়ি ভাঙচুর!

সন্ধান২৪.কমঃ যশোরে ইমরান নামে এক পুলিশ সদস্যকে মারপিট ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার ১৯ ঘণ্টা পর মুক্ত হলেন শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু। তবে পুলিশ হেফাজতে থাকা অপর তিনজনকে এখনও মুক্তি দেওয়া হয়নি।

শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান বিপুকে আটকের পর সোমবার মধ্যরাতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার এমপি ও তার সমর্থক আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীর বাড়িতে পুলিশ ভাঙচুর ও তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

যশোরে পুলিশ সদস্যকে মারপিটের অভিযোগে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহমুদ হাসান বিপুকে সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে আটকের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

এ সময় এমপির সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘দৈনিক সমাজের কথা’র প্রেসে হানা দিয়ে সংবাদপত্রে কর্মরত দুই কর্মীকেও মারপিট করা হয়েছে। এদিকে মাহমুদ হাসান বিপুকে আটক এবং নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে যশোরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে পুলিশ সুপারের দাবি, হামলা-ভাঙচুর নয়; আসামি আটকে অভিযান চালানো হয়েছে। তার পরও বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে পুলিশ লাইনসে কর্মরত কনস্টেবল ইমরান সাদা পোশাকে পুরাতন কসবার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে এক নারীর সঙ্গে বসে গল্প করছিলেন। এ সময় ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাকর্মী সেখানে গিয়ে নারীর সঙ্গে গল্প করতে দেখে তার ওপর চড়াও হন। নিজের পরিচয়পত্র দেখানোর পরও ইমরানকে শহিদ মিনার থেকে তুলে নিয়ে মারপিট করেন তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ইমরানকে উদ্ধার করে। এ সময় অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, শহিদ মিনার এলাকায় এক পুলিশ সদস্য নারী নিয়ে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় বসে ছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েক জন তাদের মারপিট করেন। হট্টগোল দেখে পাশের শেখ আবু নাসের ক্লাব থেকে মাহমুদ হাসান বিপু এগিয়ে যান। মীমাংসা করার চেষ্টা করেন। তিনি মারপিটে জড়িত নন। পুলিশ তাকে রাত পৌনে ৯টার দিকে তুলে নিয়ে যায়।

এদিকে বিপুর আটকের প্রতিবাদে দিনভর বিক্ষোভের পর মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। মুক্ত হওয়ার পর তাকে নিয়ে নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা দলীয় কার্যালয়ে যান। তাকে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় হয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

যশোরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সোমবার রাতে পুলিশ কনস্টেবল ইমরানকে শহিদ মিনার থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় পাশের আবু নাসের ক্লাবে। সেখানে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু উপস্থিত ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিপুসহ চার জনকে আটক করে পুলিশ লাইনসে নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, পুলিশ সদস্যকে মারপিট করে তারা আইন ভঙ্গ করেছে। যারা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আওয়ামী লীগের নেতা মাহমুদ হাসান বিপুকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে তিনি দাবি করেন। তবে তার পরও বিষয়টি তদন্ত করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

Exit mobile version