রাবি ক্যাম্পাসে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর এর প্রতিক্রিয়ায় ঘটেছে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের সামনের রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলে তিন শিক্ষার্থী হবিবুর রহমান হলের দিকে যাচ্ছিলেন। বিপরীত দিক থেকে আসছিল একটি পাথরবোঝাই ট্রাক।

এ সময় ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই মাহমুদ হাবিব হিমেল নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হন, অন্য দুজন গুরুতর আহত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। হিমেল নিহত হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবন নির্মাণকাজে নিয়োজিত পাঁচটি ট্রাকে আগুন দেন।

এ সময় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডি বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন। শিক্ষার্থীরা এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থাকা সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন এবং টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের পুলিশও শান্ত করতে পারেনি। পুলিশ-শিক্ষার্থীর মধ্যে পালটাপালটি ধাওয়া চলে এবং একপর্যায়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ধাওয়ার মুখে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান নেয়। ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। শিক্ষার্থীরা এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। এতে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

প্রথম কথা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবন নির্মাণের কাজে নিয়োজিত পাথরভর্তি ট্রাকের চালকের উচিত ছিল ক্যাম্পাসের ভেতর সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা। দুর্ঘটনাটি প্রকৃতপক্ষে কেন ও কীভাবে ঘটেছিল, তার তদন্ত শেষে ট্রাকচালকের দোষ পাওয়া গেলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয় কথা, শিক্ষার্থীরা তাদের সতীর্থের নিহত হওয়ার ঘটনায় যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তা সমর্থনযোগ্য নয়।

মূল অপরাধীকে না পেয়ে নিরপরাধ ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর আক্রমণ চালানো কখনোই শুভবুদ্ধির পরিচায়ক নয়। নির্মাণকাজে নিয়োজিত অন্য ট্রাকগুলোয় আগুন ধরানোর আগে শিক্ষার্থীদের ভাবা উচিত ছিল ওই ট্রাকগুলোর মালিক কোনোভাবেই ঘটনার জন্য দায়ী নন।

শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে হাজার হাজার যাত্রীকে যানজটের বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমাজের একটি অগ্রসর শ্রেণি। তাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণই প্রত্যাশা করি আমরা। হিমেল নিহত হওয়ার ঘটনায় আমরাও ব্যথিত। তার পরিবারের প্রতি রইল আন্তরিক সমবেদনা।

Exit mobile version