সন্ধান২৪.কম : ‘ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ এর ব্যানারে সম্মিলিত ছাত্র-জনতা শাহবাগের মহাসমাবেশ থেকে আগামী ১৬-১৭ অক্টোবর ২ দিনব্যাপী ধর্ষণ বিরোধী লংমার্চের ডাক দিয়েছে। ৯ অক্টোবর ধর্ষণ বিরোধী এই মহাসমাবেশে বাম-প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠণের নেতৃবৃন্দ, নারী ও সাংস্কৃতিক সংগঠণের নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বক্তব্য প্রদান করেন।
পাহাড় ও সমতলে দেশব্যাপী ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বেলা ৪টায় রাজধানীর শাহবাগে উদীচী ও চারণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের কবিতা, গান এবং নাটনন্দনের পথনাটকের মধ্য দিয়ে এ মহাসমাবেশ শুরু হয়। মহাসমাবেশ থেকে ৯ দফা দাবিসহ আগামী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আন্দোলনকর্মীরা।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়ের সভাপিত্বে ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ারের পরিচালনায় এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মহাসমাবেশ থেকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় আগামী দিনের ধর্ষণ বিরোধী লংমার্চের ডাক দিয়ে আগামী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনের আগামী দিনের কর্মসূচি-
১। ১১ অক্টোবর (রবিবার)-ধর্ষণ বিরোধী আলোকচিত্র প্রদর্শনী
২। ১২ অক্টোবর (সোমবার)-ধর্ষণ বিরোধী সাংস্কৃতিক সমাবেশ
৩। ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার)-ধর্ষণ বিরোধী চলচ্চিত্র উতসব
৪। ১৪ অক্টোবর (বুধবার)-ধর্ষণ বিরোধী নারী সমাবেশ
৫। ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার)-নারীদের অংশগ্রহণে ধর্ষণ বিরোধী সাইকেল র্যালী
৬। ১৬-১৭ অক্টোবর (শুক্র-শনিবার)-শাহবাগ-বেগমগঞ্জ ধর্ষণ বিরোধী লংমার্চ
আগামী পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণার পর, কর্মসূচি ঘোষণাকারী অনিক রায় হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ সময়ের মধ্যে সমাবেশে উত্থাপিত ৯ দফা দাবি মেনে নেওয়া না হলে আগামী ১৬-১৭ অক্টোবর (শুক্র-শনিবার) ২ দিনব্যাপী রাজধানীর শাহবাগ থেকে নোয়াখালির বেগমগঞ্জে লংমার্চ করা হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার সকাল ৯টায় শাহবাগে গণজমায়েত করে নোয়াখালির বেগমগঞ্জের উদ্দেশ্যে লংমার্চ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে কর্মসূচি ঘোষণার পূর্বে এ মহাসমাবেশ থেকেই সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন প্রিন্স আন্দোলনকারীদের ৯ দফা দাবি পেশ করেন।
ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে ৯ (নয়) দফা-
১। সারাদেশে অব্যাহতভাবে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার সাথে যুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষণ, নিপীড়ণ বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
২। পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সামরিক-বেসামরিক সকল প্রকার যৌন ও সামাজিক নিপীড়ণ বন্ধ করতে হবে।
৩। হাইকোর্টের নির্দেশানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতন বিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। সিডো সনদে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।
৪। ধর্মীয়সহ সকল ধরণের সভা-সমাবেশে নারী বিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপ্সথাপন বন্ধ করতে হবে। পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিটিসিএল এর কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক চর্চ্চায় সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।
৫। তদন্তকালীন সময়ে ভিকটিকমে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬। অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সকল মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে।
৭। ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫(৪) ধারাকে বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।
৮। পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যে কোন প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে।
৯। গ্রামীন সালিশের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।