সিরিয়াল কিলার উদয় মণ্ডল ফাঁসির আসামি হয়েও ২২ বছর যার রাজত্ব

রওশন আলী।

সন্ধান২৪.কম: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রওশন আলী ওরফে উদয় মণ্ডল ছিলেন একজন সিরিয়াল কিলার। ফাঁসির আসামি হয়েও পরিচয় গোপন করে তিনি রাজশাহীতে পালিয়ে ছিলেন    ২২ বছর ধরে দাপটে চলাচল করে আসছিলেন তিনি।

সেখানে গিয়ে নিজের নাম-পরিচয় পরিবর্তন করে গাজীপুরের ঠিকানায় উদয় মণ্ডল নামে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। যিনি ২০০০ সালে ২১ জুন স্কুলশিক্ষক আমজাদ হত্যা মামলার ১ নম্বর চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি।

বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে কাওরানবাজার র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এসব তথ্য জানান।  র‌্যাব-৫ এর অভিযানে বুধবার (১৮ আগস্ট) মধ্যরাতে রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানার ভারালীপাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

তিনি আরও বলেন, কাজী আরেফসহ পাঁচজন ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি সভা চলাকালীন প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত গুলিতে নিহত হন । ওই মামলায় ২০০৪ সালের ৩০ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা দায়রা জজ আদালত ১০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

এরপর আসামিরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেন। ২০০৮ সালের ৫ আগস্ট উচ্চ আদালত ৯ আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। আর বাকি ১৩ জনকে খালাস দেন। এর মধ্যে ২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি তিনজন আসামির ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হয়। এছাড়া একজন আসামি কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত অপর পাঁচ আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় রওশনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রাজশাহীতে আসল পরিচয় গোপন করে ‘আলী’ নামে নিজেকে পরিচয় দিতেন রওশন। রাজশাহীর স্থানীয়রা জানতেন রওশনের আদি নিবাস গাজীপুর। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি একটি গরুর খামার স্থাপন করেন। পরবর্তীতে জমি কেনা-বেচার ব্যবসায় যুক্ত হন। এভাবে ধীরে ধীরে রাজশাহীতে স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলেন তিনি। রাজশাহীতে অবস্থানকালে ‘উদয় মণ্ডল’ নামে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করেন। তবে সে নিজ এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। প্রভাব বিস্তার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে সে মাঝে মধ্যেই নিজ এলাকায় এসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেই আবার গা ঢাকা দিত।

 

 

Exit mobile version