সীমান্তে অচলাবস্থা বা উত্তেজনা বন্ধে আগেভাগে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছে ভারত ও চীন। আকস্মিক সফরে পাকিস্তান থেকে ভারতে আসার পর চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। দুই দেশের সীমান্তে, বিশেষ করে পাঙ্গোন লেক, গোগরা ও গালওয়ান উপত্যকায় মুখোমুখি অবস্থানে থাকা এবং মাঝে মাঝেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া হাজার হাজার সেনা সদস্যকে নিষ্ক্রিয়করণ নিয়ে আলোচনা করেন এই দুই নেতা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
২০২০ সালের জুনে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গদা, ইটপাথর ও ঘুষাঘুষিতে ভারতীয় কমপক্ষে ২০ সেনা সদস্য নিহত জন। অন্যদিকে চীনে নিহত হন চার জন।
বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রত্যাশার চেয়ে ধীর গতিতে বর্তমান পরিস্থিতি অগ্রসর হচ্ছে। স্পষ্ট করে আমি একথাই বলবো।
দুই দেশের মধ্যে অবচলাবস্থা কাটাতে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে ১৫ রাউন্ট আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ওয়াং ইর সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে শুক্রবার তাতে প্রত্যাশা রয়েছে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে বিরোধপূর্ণ এলাকায় নিষ্ক্রিয়করণ এবং উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাব্যতা।
চীনের সেনা মোতায়েন থেকে যে বিরোধ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় তার ফলে দুই প্রতিবেশী স্বাভাবিক সম্পর্কে মিলিত হতে পারে না। জয়শঙ্কর আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করায় চীনের আগ্রহের বিষয়ে কথা বলেছেন ওয়াং ই। তবে এ জন্য সীমান্তে শান্তি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থা স্থাপন এবং সেনাদেরকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা।
গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও চচীন উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণে পাঙ্গন সো লেক, গোগরা, গালওয়ান উপত্যকা এলাকা থেকে কিছু সেনা প্রত্যাহার করেছে। কিন্তু সেনা মোতায়েনের অংশ হিসেবে তারা ওইসব এলাকায় কিছু অতিরিক্ত সেনা রেখে দিয়েছে।
কমপক্ষে দুই বছর পরে নয়াদিল্লি সফরে গেছেন ওয়াং ই। তার এ সফরকে ঘিরে আগে থেকে কোনো বড় প্রচারণা ছিল না। কারণ, তিনি আকস্মিকভাবে সেখানে পৌঁছেছেন। তার সফরে কি ফল আসবে এ বিষয়ে কেউ প্রস্তুতও ছিল না। জয়শঙ্কর বলেছেন, ওয়াং ই’র এই সফর সম্পর্কে আগে জানানো হয়নি।
