সন্ধান২৪.কম ঃ গত কাল বৃহস্পতীবার শেষবারও পারলেন না রিপাবলিকান প্রার্থী কেভিন ম্যাকার্থি। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচনে ম্যাকার্থি টানা তৃতীয় দিনেও স্পিকার পদ নিশ্চিত করতে পারলেন না। গতকালের ঘোষনা করা মূলতবী সভা আজ শুক্রবার আবার শুরু হবে , সেখানে সব জল্পনা আর প্রতিক্ষার অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার স্পিকার নির্বাচনের জন্য ৫ বার ভোটাভুটি হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার ও বুধবার মোটে ছয়বার ভোট হয়। এর কোনোটিতেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেন নি ম্যাকার্থি। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হতে ২১৮টি ভোটের প্রয়োজন। আজ দুপুর পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদ মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।
গত কাল বৃহস্পতীবার সর্বশেষ ভোটে ম্যাকার্থি পেয়েছেন ২০০ ভোট। ম্যাকার্থির বিরুদ্ধে রিপাবলিকান বায়রন ডনাল্ডসকে ভোট দিয়েছেন ১২ জন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেফরিস ২১২টি ভোট পেয়েছেন।
এই নিয়ে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু করে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১১দফায় ভোট হলো। কিন্তু স্পিকার নির্বাচনের অচলাবস্থার অবসান ঘটলো না।
দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান শিবিরের নেতা কেভিন ম্যাকার্থি তৃতীয় দফার ভোটেও স্পিকার পদ নিশ্চিত করতে পারেননি। বৃহস্পতিবারও এক দফা ভোটে কাঙ্খিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি তিনি। ফলে প্রশ্ন উঠছে ম্যাকার্থি না হলে,কে হবেন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার।
আর স্পিকার নির্বাচিত না হওয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যাঁরা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে,তাঁরা শপথ নিতে পারছেন না। ফলে পরিষদের সকল রকম কার্যক্রম স্থবির হয়ে রয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ার পরই, ধারণা করা হচ্ছিল যে দলটির নেতা কেভিন ম্যাকার্থি পরিষদের স্পিকার হবেন। কিন্তু গত বৃহস্পতীবার পর্যন্ত কোন চুড়ান্ত ফয়সালা হলো না। মঙ্গলবার তিন দফা ও বুধবার তিন দফা ভোটেও নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। সব শেষ বৃহস্পতিবারও এক দফা ভোটে কাঙ্খিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন না ম্যাকার্থি।
যদিও ক্যালিফোর্নিয়ার এই আইনপ্রণেতা এখনো স্পিকার হওয়ার জন্য অনঢ় হয়ে আছেন। তার বিশ্বাস, দলের পক্ষ থেকে তিনিই জয় ছিনিয়ে আনবেন, প্রতিনিধি পরিষদের সেই বিখ্যাত হাতুড়ি তাঁর হাতেই উঠবে।
কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার নির্বাচিত হতে ২১৮টি ভোটের প্রয়োজন। কিন্তু দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান শিবিরের নেতা ম্যাকার্থি এই ভোট পাননি।
ভোটে ম্যাকার্থি পেয়েছেন ২০০ ভোট। ম্যাকার্থির বিরুদ্ধে রিপাবলিকান বায়রন ডনাল্ডসকে ভোট দিয়েছেন ১৯ জন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেফরিস ২১২টি ভোট। স্পিকার হতে গেলে ২১৮টি ভোট পেতে হবে।
এর আগে গত বুধবার যে তিনবার ভোটাভুটি হয়েছে, তাতে ম্যাকার্থি পেয়েছেন ২০১টি ভোট। ডনাল্ডস ২০টি ভোট এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেফরিস ২১২টি ভোট।
বুধবার ভোটের আগে ও পরে ম্যাকার্থি সহযোগীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। কৌশল তৈরি করেছেন। তবে শেষ ভোটে সেটিও ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো মধ্যপন্থি রিপাবলিকান যদি স্পিকার হওয়ার জন্য লড়েন,তাহলে তারা সমর্থন করতে পারে। তবে তাকে বাইডেনের উন্নয়ন পরিকল্পনা সমর্থন করতে হবে।
২০১৯ সাল থেকে প্রতিনিধি পরিষদে ম্যাকার্থির ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন স্টিভ স্কেলিস। অর্থা প্রতিনিধি পরিষদে ম্যাকার্থি যখন বিরোধী শিবিরের নেতা, তখন উপনেতা স্কেলিস। স্পিকার নির্বাচনে ম্যাকার্থি দুবার হেরে যাওয়ার পর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন স্কেলিস। তৃতীয় দফা ভোটে ম্যাকার্থির প্রার্থিতা মনোনয়ন দিয়ে স্কেলিস ঘোষণায় বলেছিলেন, ‘বড় কোনো অর্জন করতে’ রিপাবলিকান পার্টির পরিষদের সদস্যদের একতাবদ্ধ হন।
তবে স্কেলিসের জন্য সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে ম্যাট রোসেনডেল। ম্যাকার্থির স্পিকার পদে বসতে যে ২০ জন আইনপ্রণেতা বিরোধিতা করছেন, তাঁদের অন্যতম রোসেনডেল। গত মঙ্গলবারই তিনি বলেছেন, গত ১০ বছরে প্রতিনিধি পরিষদের যাঁরা রিপাবলিকান পার্টির নেতা ছিলেন, তাঁরা কেউ গ্রহণযোগ্য নন। অর্থাৎ ম্যাকার্থি বা স্কেলিস কাউকেই স্পিকার পদে বসতে দিতে চান না রোসেনডেল।
এদিকে ম্যাকার্থির পরেই স্পিকার হওয়ার দৌড়ে ছিলেন এলিস স্টেফানিক। নিউইয়র্কের আইনপ্রণেতা এলিস স্টেফানিক মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে সম্প্রতি ডানপন্থী হিসেবে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। সম্প্রতি যাঁরা সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জোরালো সমর্থন দিচ্ছেন,তাঁদের একজন এই নারী। এই এলিস স্টেফানিকও ম্যাকার্থিকে সমর্থন করছেন। মঙ্গলবার প্রথম দফায় যখন স্পিকার নির্বাচনের ভোট হয়, তখন ম্যাকার্থিকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন এলিস স্টেফানিক।
আলোচনায় আরও নাম
ম্যাকার্থির বিরুদ্ধে যাঁরা বিদ্রোহ করেছেন, তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন অ্যান্ডি বিগস। অ্যারিজোনার এই আইনপ্রণেতাকে ম্যাকার্থির বিরুদ্ধে প্রথম দফায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। যদিও তিনি মোটে ভোট পেয়েছেন ১০টি। এর মধ্যে নিজের ভোটটিও রয়েছে।
প্রথম দফার ভোটে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল জিম জর্ডানকেও। প্রথম দফায় তিনি পেয়েছিলেন ৬ ভোট। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি ম্যাকার্থিকে সমর্থন দিয়েছিলেন।
অ্যান্ডি বিগস ও জিম জর্ডানকে বাদ দিলে স্পিকার পদের জন্য আরেকটি নাম উচ্চারিত হয়। সেটি হলো ডেমোক্রেটিক পার্টির হাকিম জেফরিস। ডেমোক্রেটিক পার্টিতে কোনো বিভক্তি নেই। ফলে দলের ২১২টি ভোটই তিনি পেয়েছেন।
রিপাবলিকান পার্টির ছয় আইনপ্রণেতা যদি দলের প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে হাকিমকে ভোট দেন, তবে তিনি স্পিকার হয়ে যাবেন। যদিও এই সম্ভাবনা একেবারেই কম।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বলা আছে ,প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হতে এই কক্ষের নির্বাচিত সদস্য হতেই হবে, এমনটা জরুরি নয়। তবে যেই স্পিকার হননা কেন, তাঁকে আগে আইনপ্রণেতাদের কাছ থেকে মনোনয়ন পেতে হবে। এরপর তিনি স্পিকার পদের ভোটে অংশ নিতে পারবেন। সাধারণতঃ পরিষদের স্পিকার এই কক্ষের একজন আইনপ্রণেতাই হয়ে থাকেন। তবে মনোনয়নে ব্যতিক্রম দেখা গেছে বেশ কয়েকবার। সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ২০১৯ সালে। ওই সময় বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল স্পিকার হিসেবে। তবে এবার কি সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পদের জন্য মনোনয়ন পেতে পারেন?