আ‘লীগের আবদুস সোবহানের নিউইয়র্কে ৪০ লাখ ডলারের বাড়ি,কমিউনিটিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া

সন্ধান২৪.কমঃ আওয়ামী লীগের সাংসদ আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ৪০ লাখ ডলার ব্যয়ে একাধিক বাড়ি কিনেছেন। বিষয়টি নির্বাচনী হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেননি। এই তথ্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ‘অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট’ বা ওসিসিআরপি তাদের ওয়েবসাইটে করা একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

মাদারীপুর-৩ আসনের সাংসদ গোলাপকে গণসংবর্ধনা

এই সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর নিউইয়র্কের বাঙালি কমিউনিটিতে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপের কোটি কোটি টাকা দিয়ে বাড়ি কেনার সংবাদ এখন সোসালমিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেই অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের বক্তব্য, এই সব নেতার জন্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে পথে এরা পথের কাঁটা হয়ে দাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা এসব অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না। তিনি অচিরেই এর বিরদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবে। ওই নেতা আরও বলেন, দূর্নীতিবাজ ও ধান্দাবাজদের আওয়ামী লীগে কোন স্থান নেই।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে নিউইয়র্কের এক বিএনপির নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ দূর্নীতিতে ছেয়ে গেছে। তার প্রমান আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপ। গোলাপের তো মামুলি ও ছোট্ট লুটপাট। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা এর চেয়ে বড় বড় দূর্নীতি করে সেই কালো টাকা আমেরিকা, কানাডা ও দুবাই পাচার করছে। সেই পাচারের তালিকায় আছে আমলা, শিল্পপতিরা।

গত শুক্রবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মো. আবদুস সোবহান মিয়া ২০১৪ সালে প্রথম নিউইয়র্কে অ্যাপার্টমেন্ট কেনা শুরু করেন। ওই বছর নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকায় একটি সুউচ্চ ভবনে অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন তিনি। পরের পাঁচ বছরে তিনি নিউইয়র্কে একে একে মোট ৯টি প্রপার্টি বা সম্পত্তির (ফ্ল্যাট বা বাড়ি) মালিক হন। এসব সম্পত্তির মূল্য ৪০ লাখ ডলারের বেশি (ডলারের বর্তমান বিনিময় মূল্য অনুযায়ী প্রায় ৪২ কোটি টাকা)।

মো. আবদুস সোবহান মিয়া ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাদারীপুর-৩ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সস্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের পদ পান। তিনি দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদকও ছিলেন।

সংসদ সদস্য মো. আবদুস সোবহান মিয়াকে নিয়ে ওসিসিআরপির করা প্রতিবেদনের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এখন মাদারীপুরে নিজের নির্বাচনী এলাকায় আছি। শনিবার বিষয়টি ভালোভাবে জেনে তারপরে কথা বলব।’

ওসিসিআরপির করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে পাঁচটি কনডোমিনিয়াম কিনেছিলেন আবদুস সোবহান। সে সময় ওই সম্পত্তির মূল্য ছিল প্রায় ২৪ লাখ ডলার। এ ছাড়া আশপাশের ভবনগুলোতে ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার মূল্যের তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন তিনি। নিউইয়র্কে কেনা এসব সম্পত্তির নথিপত্র বলছে, সম্পত্তিগুলো নগদ অর্থে কেনা হয়েছিল। এগুলোর মালিকানায় রয়েছেন তাঁর স্ত্রী গুলশান আরাও।

ওসিসিআরপির করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আবদুস সোবহান নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে আরও একটি সম্পত্তি (বাড়ি) কিনেছিলেন। ওই সম্পত্তির মূল্য ছিল প্রায় ১২ লাখ ডলার। ২০১৯ সালের ১৫ আগস্ট তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন। এর সাত মাস আগে বাংলাদেশে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

মো. আবদুস সোবহান মিয়া ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাদারীপুর-৩ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় সস্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের পদ পান। তিনি দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদকও ছিলেন।

Exit mobile version